পচা ডিমের আতঙ্ক নাকি ক্ষমতার মোহ, কোন সমীকরণে পদ্মবনে ঘাসফুলের সাংসদরা?
নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনরোষ ও বিক্ষোভের মুখে পড়ে অনেক প্রভাবশালী নেতা ও সাংসদ দলত্যাগের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। সোমবার দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বাংলার পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে তৃণমূলের ১১ জন লোকসভা সদস্যের একটি বৈঠক হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা তিনটি বিশেষ শর্তের ভিত্তিতে দরকষাকষি করছেন। তাঁদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে ২০২৯ সালের পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা, দলত্যাগের পর রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হলে তার পরিবর্তে উচ্চপর্যায়ের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়ার নিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রের কোনো কমিশনের চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ। সোমবার কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সুখেন্দু শেখর রায়সহ অন্তত ২১ জন তৃণমূল সাংসদ প্রথমে একটি গোপন বৈঠক করেন এবং পরবর্তীতে তাঁদের একাংশ বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই গণ-দলবদল প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং রাজ্যে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।