তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ, ২০ সাংসদকে নিয়ে বড় ভাঙনের অপেক্ষায় বঙ্গ রাজনীতি!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠেছে। রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দু শেখর রায়ের ইস্তফার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ২০ জন সাংসদকে নিয়ে পৃথক বসার আবেদন জানিয়েছেন লোকসভার স্পিকারের কাছে। লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদ থাকায়, এই ২০ জনের দলত্যাগ দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতা থেকে বাঁচতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। সূত্রের খবর, বিদ্রোহী সাংসদেরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিরোধিতা করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় কাজ করতে আগ্রহী।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং তার অনুগামীরা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদব ও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন এবং এই গোষ্ঠীটি এনডিএ-কে সমর্থনের পথে হাঁটছে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিদ্রোহকে ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এদিকে, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ঘটনাকে রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা ও নীতিহীনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করে বিদ্রোহী সাংসদদের পদত্যাগ করে পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি একে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা হিসেবে দাবি করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে দল ভাঙার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এই পরিস্থিতি তৃণমূলের সাংগঠনিক সংহতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, যার ফলে সংসদে দলের আসন বিন্যাস ও ভবিষ্যৎ ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *