প্যালেস্তিনীয় বন্দিদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন! ইজরায়েলি জেলের বীভৎস সত্য ফাঁস
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বডিজ অফ এভিডেন্স: ইসরায়েল’স ডার্কেস্ট ওয়েপন’ শীর্ষক তথ্যচিত্রে ইজরায়েলি বন্দিশালায় প্যালেস্তিনীয় বন্দিদের ওপর অকথ্য যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে এই ধরনের নির্যাতনের মাত্রা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে যে, বন্দিদের নগ্ন করে হাত-পা ও চোখ বেঁধে পাশবিক অত্যাচার চালানো হতো এবং ইজরায়েলি সেনাসহ মহিলা কারারক্ষীরা এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করত। এছাড়া, বন্দিদের যৌনাঙ্গ কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করার জন্য হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দেওয়ার মতো বর্বরোচিত ঘটনাও ঘটেছে।
এই ধরনের নির্যাতনের পেছনে ইজরায়েলি রাষ্ট্রযন্ত্র ও কট্টরপন্থী নেতাদের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বন্দিকে গণধর্ষণের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ রাজনৈতিক চাপে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। উল্টো সেই ভিডিও ফাঁস করার জন্য দেশটির একজন মেজর জেনারেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইজরায়েলি সংসদে বন্দিদের ওপর যেকোনো ধরনের অত্যাচারকে বৈধ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির জেরে আন্তর্জাতিক মহলে ইজরায়েলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং ২০২৫ সালের মার্চে রাষ্ট্রসংঘ যৌন হিংসার দায়ে দেশটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে।