আইনি চাপে মমতা ও অভিষেক, উত্তাল রাজ্য রাজনীতি!
সই জালিয়াতির মামলায় সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর এবার ভোটপ্রচারে ‘উস্কানিমূলক মন্তব্যের’ অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস দিয়েছে সিআইডি। শুক্রবার বিকেলে এই নোটিস দেওয়ার জন্য তদন্তকারী দলের সদস্যরা তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সে সময় বাড়িতে না থাকায় দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, পরে সন্ধ্যায় তিনি ফিরে নোটিস গ্রহণ করেন। পাশাপাশি, শব্দচয়ন নিয়ে বিতর্কের জেরে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ৯ মার্চ মেট্রো চ্যানেলের সভায় করা মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছে। এছাড়া, ২ জুন রানি রাসমণি রোডের সভায় করা মন্তব্যের জেরেও তাঁর বিরুদ্ধে শিলিগুড়িতে পৃথক অভিযোগ জমা পড়েছে।
তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও আগাম যোগাযোগ না করে হঠাৎ বাসায় নোটিস দিতে আসায় সিআইডির ভূমিকার সমালোচনা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সই জাল-কাণ্ডে আগামী ১৪ জুন তাঁকে পুনরায় ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছে এবং তিনি সেখানে হাজিরা দেবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, শাসকদলের শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে একের পর এক আইনি তৎপরাতা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে। কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বর্তমানে সুরক্ষা দিলেও, এই মামলাগুলো রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।