খরচ বাঁচাতে গিয়েই তারাতলায় মৃত্যুফাঁদ, প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!
কলকাতার তারাতলায় নির্মাণাধীন তিনতলা গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় চরম গাফিলতির তথ্য উঠে এসেছে। কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্মাণ খরচ কমাতে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল। পুরো প্রকল্পে লোহার রড বাবদ মাত্র ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যা প্রয়োজনীয় খরচের তুলনায় অনেক কম। এই অবাস্তব বাজেটের মধ্যে কাজ শেষ করার অসাধু চেষ্টাই বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এছাড়া নির্মাণস্থলে কর্মরত শ্রমিকদের কোনো নির্দিষ্ট রেকর্ড না রাখায় ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন চাপা পড়ে আছেন, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছে প্রশাসন।
এই ঘটনায় ‘আয়ান ট্রেডার্স’-এর সুপারভাইজার গুলজার হোসেন, লোহার বিমের ফ্যাব্রিকেটর কমল সামন্ত, গোডাউনের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা, শ্রমিক সরবরাহকারী দিবাকর ভান্ডারী এবং পুরসভার দালাল আবদুল হামিদকে গ্রেপ্তার করে আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে। বিচারক তাদের ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি আইনজীবীর মতে, অভিযুক্তরা জেনেশুনেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এই মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে সিট কলকাতা পুরসভার অনুমোদিত প্ল্যান এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের লিজের নথি খতিয়ে দেখছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, এই নির্মাণের দায়িত্বে থাকা মৃত ঠিকাদার আসগরের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও অপহরণের মতো একাধিক পুরনো মামলা ছিল।