প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ভারতের নতুন মাইলফলক এবং জেন টেকনোলজিসের বড় সাফল্য
ভারত সরকার ‘আর্মস অ্যাক্ট ১৯৫৯’-এর আওতায় জেন টেকনোলজিসকে বিভিন্ন ক্যালিবারের আধুনিক কামান তৈরির লাইসেন্স প্রদান করেছে। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি মূলত সামরিক প্রশিক্ষণ সিমুলেটর এবং অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম তৈরির জন্য পরিচিত। এই অনুমোদনের ফলে এখন থেকে সংস্থাটি ১২.৭ মিমি থেকে শুরু করে ৪০ মিমি পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন র্যাপিড-ফায়ার ক্যানন সিস্টেম দেশীয়ভাবে তৈরি করতে পারবে।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কৌশলগত রূপান্তর
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এবং ছোট আকারের আকাশপথের হামলা মোকাবিলা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জেন টেকনোলজিসের তৈরি এই তোপগুলো মূলত এয়ার ডিফেন্স বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শেষ স্তর হিসেবে কাজ করবে। এগুলো নিচু দিয়ে উড়ে আসা যুদ্ধবিমান, আত্মঘাতী ড্রোন এবং ড্রোনের ঝাঁককে নিখুঁতভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। রাডার ও ইনফ্রারেড সেন্সরের সাথে যুক্ত এই প্রযুক্তি আকাশপথের নিরাপত্তাকে আরও দুর্ভেদ্য করে তুলবে।
স্বনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক প্রভাব
বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। আমদানিকৃত ব্যয়বহুল মিসাইল সিস্টেমের তুলনায় এই র্যাপিড-ফায়ার কামানগুলো অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং কার্যকর সমাধান প্রদান করবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভাবন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরি হবে, যা দেশের কৌশলগত নিরাপত্তাকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত করবে।
এক ঝলকে
- ভারত সরকার জেন টেকনোলজিসকে ১২.৭ মিমি থেকে ৪০ মিমি পর্যন্ত আধুনিক কামান তৈরির লাইসেন্স দিয়েছে।
- এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নিচু দিয়ে ওড়া বিমান এবং আত্মঘাতী ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হবে।
- এটি ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে।
- ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে লড়াই করতে এই সিস্টেমটি মিসাইলের চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও কার্যকরী।