কানপুরে ঘুমন্ত যমজ কন্যাসন্তানকে গলা কেটে হত্যা, জন্মদাতা বাবার নৃশংসতায় স্তম্ভিত দেশ
উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক মর্মান্তিক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পেশায় প্রাক্তন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ শশী রঞ্জন মিশ্র তার ১১ বছর বয়সী যমজ দুই মেয়েকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে। ঘটনার সময় পাশের ঘরে নিজের ছয় বছরের ছেলের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন মা রেশমা। ভোরবেলা পুলিশ বাড়ির দরজায় কড়া নাড়লে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ঘাতক বাবা নিজেই পুলিশকে ফোন করে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে।
অবসাদ ও চরম নিরাপত্তাহীনতার জের
তদন্তে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে শশী রঞ্জন চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। বিশেষ করে মায়ের মৃত্যুর পর তার মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে। বেকারত্ব এবং আর্থিক অনটন তাকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। শশী তার স্ত্রীর ওপর সন্দেহবাতিক ছিলেন এবং পুরো ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই তিনি তাদের ‘মুক্তি’ দিতে এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড
পুলিশের ধারণা, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার আগের দিনই ঘাতক বাবা বাজার থেকে ধারালো ছুরি কিনে আনেন। রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মেয়েদের অচেতন করা হয়েছিল, যাতে তারা বাধা দিতে না পারে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাত আড়াইটা নাগাদ একটি মেয়েকে শৌচাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যার অর্থ তখন পর্যন্ত তারা জীবিত ছিল। এরপরই ঘুমের ঘোরে তাদের শ্বাসরোধ করে এবং ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ফরেনসিক রিপোর্টে ধস্তাধস্তির কোনো চিহ্ন মেলেনি, যা নিশ্চিত করে যে খুনের সময় তারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল।
এক ঝলকে
- কানপুরে ১১ বছরের যমজ দুই মেয়েকে নিজের হাতে হত্যা করেছে বাবা শশী রঞ্জন মিশ্র।
- খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে শ্বাসরোধ ও পরে গলা কেটে এই নৃশংসতা চালানো হয়।
- বেকারত্ব, পারিবারিক বিবাদ ও মানসিক অবসাদকে এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছে পুলিশ।
- ঘাতক বাবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে নওবস্থা থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।