হোরমুজ প্রণালী বন্ধের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যে বড় লাফ
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনীতিতে নতুন মোড় নেওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা পরিস্থিতির জটিলতা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হোরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সোমবার তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে।
সাপ্লাই চেইন ও বিশ্ববাজারের অস্থিরতা
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় এবং আমেরিকা কর্তৃক ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দের ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে ডব্লিউটিআই (WTI) তেলের দাম প্রায় ৬.৩০ শতাংশ বেড়ে ৮৯.১৩ ডলারে ঠেকেছে। অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৫.৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৫.৩৮ ডলারে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হোরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এই পথ বন্ধ হলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় বাজারে তেলের দাম ও প্রভাব
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও ভারতের খুচরা বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আপাতত স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। সরকার আবগারি শুল্ক কমিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলোর ক্ষতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে, ফলে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি বড় প্রভাব পড়েনি। তবে প্রিমিয়াম মানের জ্বালানি এবং কিছু বেসরকারি শোধনাগার ইতিমধ্যে দাম বাড়াতে শুরু করেছে। একই সময়ে রান্নার গ্যাসের দামে প্রভাব পড়েছে এবং গত মাসে গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রোল ১০৫.৪১ টাকা এবং ডিজেল ৯২.০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এক ঝলকে
- আমেরিকা ও ইরানের উত্তেজনায় হোরমুজ প্রণালী বন্ধের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করছে।
- ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা।
- আন্তর্জাতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতে সরকারি হস্তক্ষেপে পেট্রোল-ডিজেলের দাম আপাতত অপরিবর্তিত রয়েছে।
- জ্বালানি তেলের প্রভাবে রান্নার গ্যাসের দাম সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।