রাজপথে আন্দোলন করলেই লাঠিচার্জ নয়, মোদী সরকারকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের!
দিল্লিতে ‘সংসদ চলো’ অভিযানে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জের ঘটনার প্রেক্ষিতে এক ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নাগরিকদের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার, যা কোনো অজুহাতেই দমন করা যায় না। গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন অভিমুখে মিছিলে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী পুলিশ কর্মীদের শাস্তির দাবিতে দায়ের করা এক মামলার শুনানিতে বিচারপতিরা এই কড়া বার্তা দেন।
মামলাকারীদের পক্ষ থেকে ওইদিন যন্তর মন্তর ও সংসদ মার্গ এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং দায়িত্বরত পুলিশ কর্মীদের বডি-ক্যামেরার অডিও-ভিডিও প্রমাণ সুরক্ষিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের আবেদনও জানানো হয়েছে আদালতে। এদিকে, দেশজুড়ে এই আন্দোলনের চাপে পড়ে গত শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) ও ছাত্রনেতারা জানিয়েছেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, প্রশ্নফাঁসের মূলহোতাদের শাস্তি এবং দোষী পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই পরিস্থিতির জন্য মোদী সরকারকে দায়ী করে সরব হয়েছেন। তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে, দিল্লিতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি পেলেট গানের ব্যবহার করা হয়েছে এবং বিহারেও নিট অনিয়মের প্রতিবাদী ছাত্রদের ওপর পুলিশ গুলি চালিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর পর্যবেক্ষণ ও আইনি চাপের মুখে কেন্দ্র সরকার এখন বড় ধরনের অস্বস্তিতে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।