গাঁজা খেয়ে বিমান চালনা! ৩০০ ফুট উচ্চতায় মদ্যপ পাইলটের ভয়ঙ্কর কাণ্ড
বার্তা ডেস্কঃ
ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে তীব্র ঝাঁকুনি এবং মাত্র কয়েক সেকেন্ডে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় সামনে এল বিস্ফোরক তথ্য। জানা গেছে, বিমানটির ‘পাইলট-ইন-কম্যান্ড’ বা প্রধান পাইলট গাঁজা খেয়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় যাত্রীভর্তি বিমানটি ওড়াচ্ছিলেন। প্রথম ডোপ টেস্টের পর দ্বিতীয়বারের মাদক পরীক্ষাতেও (Dope Test) তাঁর নমুনায় গাঁজা সেবনের উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাক্রম: গত ৪ আগস্ট ফুকেত থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার ‘AI2379’ বিমানটি মাঝআকাশে আচমকাই চরম প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র ঝাঁকুনির মুখে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বিমানটি সটান ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে বিমানের যাত্রী ও একাধিক কর্মী গুরুতর আহত হন এবং বিমানেরও কিছু ক্ষতি হয়। এই ঘটনার পর দেশের অসামরিক বিমান পরিবহণের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সর প্রশ্ন উঠে যায়।
ডোপ টেস্ট ও চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট: ঘটনার পরই নিয়ম মেনে বিমানে থাকা দুই পাইলটের বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট করানো হয়। প্রথম দফার পরীক্ষাতেই প্রধান চালক ফেল করায় সঙ্গে সঙ্গে দুই পাইলটকেই ফ্লাইট ডিউটি থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের জন্য পুনরায় সংগৃহীত নমুনা ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হলে প্রকাশিত দ্বিতীয় টেস্টের রিপোর্টেও প্রধান পাইলট পজিটিভ ধরা পড়েন। তবে বিমানের কো-পাইলট মাদক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন (নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে)।
ডিজিসিএ-র কড়া পদক্ষেপ: বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা ‘DGCA’ (Directorate General of Civil Aviation)। এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চালকদের নিয়মিত ডোপ টেস্ট করানো সংস্থার অন্যতম নিয়ম এবং এই পূর্ণাঙ্গ তদন্তে তারা ডিজিসিএ-কে সম্পূর্ণ সহায়তা করছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত পাইলটকে কোনওভাবেই ডিউটিতে ফেরানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।