লাইব্রেরিয়ান নিয়োগে বড়সড় দুর্নীতি, ফাইল খুলতেই কি ফাঁস হবে চাঞ্চল্যকর তথ্য!
বার্তা ডেস্কঃ
তৃণমূল জমানার বিগত ১৫ বছরে মাত্র ৫৫০ জন গ্রন্থাগারিক নিয়োগ করা হলেও তাতে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান গ্রন্থাগার দপ্তরের মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সমস্ত ফাইলের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে এবং অনিয়মে যুক্ত কেউ ছাড় পাবে না। রাজ্যের ২৪৬৭টি সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত সাধারণ গ্রন্থাগারের অনুমোদিত ৫৫২০টি পদের মধ্যে চার হাজারের বেশি পদ বর্তমানে শূন্য পড়ে রয়েছে। কর্মী সংকটের কারণে প্রায় ১৩০০টি গ্রন্থাগার আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমূল্য বই ও সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। বহু ক্ষেত্রে একজন মাত্র গ্রন্থাগারিককে দুই থেকে চারটি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে গ্রন্থাগার বন্ধ থাকা এবং করোনা পরিস্থিতির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন গ্রন্থাগারে প্রায় ১০ লক্ষ বই নষ্ট হওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে।
এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্য সরকার এবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে জেলা স্তরে লোকাল লাইব্রেরি অথরিটির ভূমিকা খর্ব করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যেই নতুন করে ৫০০ জন যোগ্য গ্রন্থাগারিক নিয়োগ করা হবে। ওরিয়েন্টাল লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও অতীতে হওয়া নিয়োগ দুর্নীতি নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। গ্রন্থাগারমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বই কেনা থেকে শুরু করে বইমেলা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া—সব ক্ষেত্রেই হওয়া দুর্নীতির তদন্ত হবে। রাজ্যের সমস্ত সাধারণ গ্রন্থাগারের পরিষেবা দ্রুত সচল করতে এখন থেকেই প্রতি বছর নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে দপ্তর।