ফেন্টানিল ইনজেকশন ও তরুণী নার্সের রহস্যমৃত্যু! স্বামীর ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: কলকাতা নীলরতন সরকার (NRS) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অন্দরে এক তরুণী নার্সের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন বা সুইসাইড নোট মেলেনি। তবে তদন্তকারীদের হাতে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য—শৌচাগারে যাওয়ার সময় ওই নার্স সঙ্গে করে কড়া ঘুমের ওষুধ ‘ফেন্টানিল’-এর তিনটি ভায়াল নিয়ে গিয়েছিলেন।

ঠিক কী ঘটেছিল বুধবার রাতে? হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত নার্সের মূল বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে হলেও তিনি বর্তমানে দমদমে থাকতেন এবং সম্প্রতি তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

  • ডিউটিতে যোগ: বুধবার রাত ৮টা নাগাদ তিনি এনআরএসের এইচডিইউ (HDU) ওয়ার্ডে নাইট ডিউটিতে যোগ দেন।
  • শৌচাগারে প্রবেশ: রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি গাইনি বিভাগের শৌচালয়ে যান।
  • দরজা ভেঙে উদ্ধার: দীর্ঘক্ষণ সাড়াশব্দ না পেয়ে রাত ১০টা ২৭ মিনিট থেকে সহকর্মীরা ডাকাডাকি শুরু করেন। ভেতর থেকে সাড়া না মেলায় বাধ্য হয়ে শৌচাগারের দরজা ভাঙা হয়। দেখা যায়, মেঝেতে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তিনি। দ্রুত তাঁকে চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

স্বামীর পদক্ষেপে ঘনীভূত রহস্য তরুণী নার্সের এই আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত তাঁর সহকর্মীরা। তবে মৃত্যুর চেয়েও বেশি রহস্য তৈরি হয়েছে তাঁর সদ্য বিবাহিত স্বামীর আচরণে। তিনি এনআরএস হাসপাতালে স্ত্রীর ময়নাতদন্ত করাতে সরাসরি অস্বীকার করেছেন, যা নিয়ে জন্ম দিয়েছে নানান প্রশ্নের।

ফেন্টানিল ও কনুইয়ের ইনজেকশনের দাগ তদন্তকারীদের নজরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অচেতন করার কড়া ওষুধ ফেন্টানিলের ৩টি ভায়াল কীভাবে ওই নার্সের হাতে এল? মৃতার কনুইয়ের জয়েন্টে ইনজেকশন পুশ করার স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। তিনি কি নিজেই এই ড্রাগ ইনজেক্ট করেছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে লালবাজারের হোমিসাইড টিম, পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খবর পেয়েই এনআরএস হাসপাতালে ছুটে যান রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি সহকর্মী নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে তদন্তে নেমেছে লালবাজারের শীর্ষ আধিকারিকদের বিশেষ টিম। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগরওয়াল এবং ডিসি (পূর্ব শহরতলি) সুবিমল পালের নেতৃত্বে হোমিসাইড টিম ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ডও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *