ট্রাম্পের নজরে ভারত! চিন-রাশিয়া ইস্যুতে হঠাৎ কেন চাপে মোদী সরকার?
বার্তা ডেস্কঃ
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা এবং চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রভাব— এই জোড়া ইস্যুতে ভারতের ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারোর সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
আমেরিকার মূল অভিযোগ কী? মার্কিন প্রশাসনের দাবি, চিন থেকে আসা পণ্যের ওপর আমেরিকা যে বিপুল শুল্ক আরোপ করেছে, তা এড়াতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ‘শ্যাডো ট্রান্স-শিপমেন্ট’ (Shadow Trans-shipment) বা গোপন বাণিজ্যপথ ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ, চিনা পণ্য সরাসরি আমেরিকায় না পাঠিয়ে ভারতসহ প্রায় ৪০টিরও বেশি তৃতীয় দেশে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে পণ্যের প্যাকেজিং, লেবেল বা সামান্য পরিবর্তন ঘটিয়ে সেটিকে সংশ্লিষ্ট দেশের তৈরি পণ্য হিসেবে আমেরিকায় রফতানি করা হচ্ছে। পিটার নাভারো স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই শুল্ক ফাঁকির ছক রুখতে ভারত এখন আমেরিকার বিশেষ নজরদারিতে বা ‘রাডারে’ রয়েছে।
তবে এই তালিকায় শুধু ভারত একা নয়; মেক্সিকো, কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর নামও রয়েছে। মার্কিন রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ধরনের শুল্ক ফাঁকির কারণে আমেরিকা বছরে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব হারাচ্ছে।
ভারতের যেসব শিল্পাঞ্চল মার্কিন নজরে: প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন রিপোর্টে ভারতের গুজরাত, চেন্নাই এবং পুণের মতো বড় বড় শিল্পাঞ্চলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আমেরিকার সন্দেহ, এসব এলাকার কিছু প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে চিনা কাঁচামাল বা পণ্যের সামান্য রূপান্তর ঘটিয়ে মার্কিন বাজারে পাঠানো হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই অঞ্চলগুলোর সব সংস্থাই বেআইনি কাজের সাথে যুক্ত, বরং বাণিজ্যপথের গলদগুলো চিহ্নিত করতেই এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।
রুশ তেল নিয়েও উত্তপ্ত জল: চিন ইস্যুর পাশাপাশি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি নিয়েও ভারতের ওপর ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ভারতের মোট তেল আমদানির ৫০ শতাংশেরও বেশি এসেছে রাশিয়া থেকে। রাশিয়ার এই আয় বন্ধ করতে মার্কিন সেনেটে এক প্রস্তাব আনা হয়েছে, যেখানে রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে।
ভবিষ্যতের প্রভাব: সব মিলিয়ে আমেরিকা মূলত তিনটি লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে— চিনের শুল্ক ফাঁকি রোখা, রাশিয়ার অর্থনৈতিক উৎস বন্ধ করা এবং নিজের দেশে বিদেশি পণ্যের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। অন্যদিকে, ভারত নিজের জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন মেনেই রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য বজায় রাখছে। তবে আমেরিকার এই কঠোর অবস্থানের ফলে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ‘রুলস অফ অরিজিন’ (Rules of Origin) বা পণ্যের উৎস যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠিন হতে চলেছে।