৩০ লাখের আয় নিয়ে বড় বিপত্তি, ট্রাইব্যুনালের রায়ে স্বস্তি পেলেন করদাতা!

বার্তা ডেস্কঃ

বার্ষিক আয় ৩০ লক্ষ টাকার বেশি, অথচ নির্ধারিত সময়ে জমা দেওয়া হয়নি আয়কর রিটার্ন (ITR)। আয়কর বিভাগের নোটিশের পর মোটা অঙ্কের জরিমানা চাপানো হয়েছিল ওই চাকুরিজীবীর ওপর। কিন্তু দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর দিল্লি আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল (ITAT)-এর একটি ঐতিহাসিক রায়ে পুরোপুরি মওকুফ হলো সেই ৩.৭৪ লক্ষ টাকার জরিমানা।

ঠিক কী ঘটেছিল? ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে (২০১৯-২০ মূল্যায়ন বছর) এক বেতনভোগী কর্মীর বার্ষিক আয় ৩০ লাখ টাকা অতিক্রম করে। কিন্তু সে বছর চাকরি পরিবর্তন করায় সময়মতো পূর্ববর্তী ও বর্তমান দুই নিয়োগকর্তার কাছ থেকে ‘ফর্ম ১৬’ (Form 16) সংগ্রহ করতে পারেননি তিনি। তাছাড়া তাঁর একটি ভুল ধারণাও ছিল—যেহেতু নিয়োগকর্তারা ইতিমধ্যেই বেতন থেকে কর (TDS) কেটে নিয়েছেন এবং তা ‘ফর্ম ২৬এএস’ (Form 26AS)-এ দেখা যাচ্ছে, তাই হয়তো আলাদা করে রিটার্ন দাখিল করার আর প্রয়োজন নেই।

আইনি জটিলতা ও ৩.৭৪ লাখের জরিমানা পরবর্তী সময়ে আয়কর বিভাগ বিষয়টি জানতে পেরে ধারা ১৪৮-এর অধীনে নোটিশ পাঠায়। নোটিশ পাওয়ার পর ওই করদাতা তাঁর সম্পূর্ণ আয়ের হিসাব (৩০,২২,৯০০ টাকা) প্রকাশ্যে এনে রিটার্ন দাখিল করেন।

অ্যাসেসিং অফিসার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁর দেওয়া আয়ের তথ্যে কোনো ভুল পাননি এবং কোনো নতুন আয় যোগ না করেই পুরো ৩০.২২ লাখ টাকাই বহাল রাখেন। তবে মূল সময়ে রিটার্ন জমা না দেওয়ায়, বিভাগ ধরে নেয় যে তিনি আয় কম দেখিয়েছেন (Under-reported income)। এই যুক্তিতে ধারা ২৭০এ অনুযায়ী করের ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ৩,৭৪,০৭২ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। প্রথম আপিলে কমিশনার অফ ইনকাম ট্যাক্স (CIT) এই আবেদন খারিজ করলে করদাতা আইটিএটি-র (ITAT) শরণাপন্ন হন।

কেন জরিমানা মওকুফ করল ITAT? মামলার শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণ করে যে: ১. আয় গোপন করা হয়নি: করদাতা নোটিশ পাওয়ার পর সৎ উদ্দেশ্যে তাঁর সম্পূর্ণ আয় ও নথিপত্র জমা দিয়েছেন, যা বিভাগ হুবহু মেনে নিয়েছে। ২. তথ্য আগে থেকেই ছিল: বেতন ও টিডিএস-এর সমস্ত বিবরণ ইতিমধ্যেই সরকারের ‘ফর্ম ২৬এএস’-এ উপলব্ধ ছিল। ৩. সৎ বিশ্বাস (Good Faith): ধারা ২৭০এ(৬)(এ) অনুযায়ী, করদাতা যদি সঠিক ব্যাখ্যা ও প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন, তবে জরিমানা মওকুফের বিধান রয়েছে।

এই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট জানায়, এটি কোনো আয় লুকানোর মামলা নয়। ফলে ৩.৭৪ লাখ টাকার জরিমানা বাতিল ঘোষণা করা হয়।

চাকুরিজীবীদের জন্য মূল শিক্ষা এই রায় চাকুরিজীবীদের জন্য এক বড় বার্তা। টিডিএস কাটা থাকলেও প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইটিআর (ITR) জমা দেওয়া আইনিভাবে বাধ্যতামূলক। আইটিআর দাখিল করার আগে সবসময় ‘ফর্ম ১৬’ ও ‘ফর্ম ২৬এএস’ মিলিয়ে দেখা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরণের অপ্রয়োজনীয় আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে না হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *