নিয়ম মেনেও দোকান বন্ধ, ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে FDA-কে!

বার্তা ডেস্কঃ

পুনে: খাদ্য সুরক্ষার সিংহভাগ নিয়ম কানুন মেনে চলা সত্ত্বেও একটি জনপ্রিয় মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখায় মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)-কে তীব্র ভর্ৎসনা করল বম্বে হাইকোর্ট। কেবল মৌখিক ভর্ৎসনাতেই শেষ নয়, পুনের ওই মিষ্টির দোকানকে ১ মাসের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাজ্য খাদ্য দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। পাশাপাশি, বন্ধ হয়ে যাওয়া দোকানটি অবিলম্বে পুনরায় খুলে ব্যবসা শুরু করার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পেছনের ইতিহাস: ঘটনার সূত্রপাত পুনের বিখ্যাত ‘গুরুনানক ডেয়ারি অ্যান্ড সুইটস’কে কেন্দ্র করে। খাদ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে মহারাষ্ট্র এফডিএ দোকানটির লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত (Suspend) করে। এরপর দোকান কর্তৃপক্ষ তাদের যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করে ফের পরিদর্শনের আবেদন জানায়। এফডিএ-র পুনর্নিরীক্ষণে দেখা যায়, দোকানটি প্রায় ৯৮ শতাংশ নিয়মই সঠিকভাবে মেনে চলছে। কিন্তু এতদসত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে লাইসেন্স ফিরিয়ে দেয়নি প্রশাসন।

দীর্ঘদিন ব্যবসা বন্ধ থাকায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় দোকান কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, গত জুন মাস থেকে দোকান বন্ধ থাকায় প্রায় ৮.৭৪ লক্ষ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

আদালতের তীব্র ভর্ৎসনা ও পর্যবেক্ষণ: ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ঘুগে এবং বিচারপতি গৌতম আঙ্কহাদের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানিকালে আদালতের পর্যবেক্ষণ— খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম প্রয়োগে এফডিএ কর্তৃপক্ষ ‘বাড়াবাড়ি’ করছে। এফডিএ-র এই ধরনের একরোখা নীতিকে আদালত ‘অদ্ভুত’ ও ‘বিকৃত’ বলে আখ্যা দেয়।

আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানায়, “জনস্বাস্থ্যে খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ত্রুটি শুধরে নেওয়ার পর ৯৮% নিয়ম মানা সত্ত্বেও তাকে ব্যবসা করতে না দেওয়া এক ধরণের অন্যায় চাপ সৃষ্টি করা।”

আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ: ১. অবিলম্বে মিষ্টির দোকানটির লাইসেন্স ফিরিয়ে দিয়ে ব্যবসা শুরুর অনুমতি দিতে হবে। ২. ব্যবসায়ীর আর্থিক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে মহারাষ্ট্র এফডিএ-কে আগামী ১ মাসের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

উল্লেখ্য, এই রায়ের পর মহারাষ্ট্রের এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুন্ধে জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশের কপি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইনজীবী ও সাধারণ মহলের মতে, হাইকোর্টের এই রায় নির্দেশ দেয় যে—আইন প্রয়োগের নামে প্রশাসনিক কর্তারা যেন নিজেদের একচ্ছত্র ক্ষমতার অপব্যবহার না করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *