আদানির ১০০০ কোটির ‘ভুল’ চালান মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল কর্নাটক ডিসকম!
বার্তা ডেস্কঃ
আদানি পাওয়ারের একটি বিতর্কিত ও ১,০০৫ কোটি টাকার “ভুল” চালান আটকে দেওয়ার আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। কর্নাটকের বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলির (ডিসকম) একটি গ্রুপের করা আবেদন সরাসরি নাকচ করে দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই মুহূর্তে তারা বিচারবিভাগীয় আপিল ট্রাইব্যুনালের (APTEL) আদেশে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করবে না।
এর ফলে সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন (CERC)-এর সেই পুরনো নির্দেশই বহাল রইল, যেখানে কর্নাটকের ডিসকমগুলোকে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে আদানি পাওয়ারের দাবি করা সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট আপিল ট্রাইব্যুনালকে আগামী তিন মাসের মধ্যে এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করার নির্দেশও দিয়েছে।
আইনি লড়াইয়ের পটভূমি
২০২৩ সালে CERC কর্নাটকের ডিসকমগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, নির্ধারিত পরিমাণের অতিরিক্ত অর্থ তথা লেট পেমেন্ট সারচার্জ (LPS) সমেত বহন খরচ মেটানোর দায় তাদেরই রয়েছে। এই অর্থ মোট ছয়টি কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছিল এবং সময়মতো অর্থ না দিলে আদানি পাওয়ার বাড়তি এলপিএস পাওয়ার অধিকারী হবে। পরবর্তীতে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আদানি পাওয়ার সরাসরি কমিশনের দ্বারস্থ হয়।
অন্যদিকে, কর্নাটক পাওয়ার কো ম্পা নির নেতৃত্বাধীন ডিসকমগুলো পাল্টা দাবি করে যে, তাদের কোনো বকেয়া অর্থ পরিশোধ করার কথা নয়। তাদের অভিযোগ ছিল, APTEL যথাযথভাবে কোনো বিচার্য বিষয়ের গভীরে না গিয়েই CERC-এর একটি “ভুল ও বিকৃত” আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিতে ভুলভাবে অস্বীকার করেছে।
ডিসকমগুলির উদ্বেগ
সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা আবেদনে কর্নাটকের বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো সাফ জানিয়েছিল যে, এই বিপুল পরিমাণ অনিশ্চিত বকেয়া অর্থ সময়মতো পরিশোধ না করলে তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে। এর ফলে সরাসরি সাধারণ গ্রাহক এবং ডিসকমগুলোর ওপর চরম আর্থিক ও আইনি চাপ তৈরি হবে।
সংস্থাগুলোর যুক্তি ছিল, আদালতের তরফে কোনো সুরক্ষা না মেলায় চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে বাধ্য হয়েই তাদের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত খরচের ধাক্কা সামলাতে গিয়ে কর্নাটকের ডিসকমগুলোকে আগামী দিনে সরকারের অন্যান্য বৈধ খরচ ও প্রকল্পগুলোর দেখভাল করতে গিয়ে মারাত্মক হিমশিম খেতে হবে।