রাম মন্দির প্রণামী চুরি কাণ্ড! চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রকে ক্লিনচিট, গ্রেফতার ৮
বার্তা ডেস্কঃ
অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রণামী ও অনুদান চুরি বিতর্ক ঘিরে অবশেষে বড় স্বস্তি পেলেন রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন কর্তারা। এই ঘটনার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্রকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে ঘোষণা করেছে।
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর সিট-এর চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট রাম মন্দির ট্রাস্টের হাতে তুলে দেওয়ার পরেই এই ক্লিনচিটের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
কী ঘটেছিল রাম মন্দিরে? অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামী ও অনুদানের টাকা চুরির ঘটনা সামনে আসার পর সারা দেশ জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। বিরোধীরা এই নিয়ে সরব হন এবং বিষয়টিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতির দাবিতে সংসদে হট্টগোল শুরু হলে একাধিকবার লোকসভা ও রাজ্যসভার কাজ ব্যাহত হয়। এই বিতর্কের জেরে গত ২৭ জুন ট্রাস্টের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র।
সিট-এর তদন্ত ও চূড়ান্ত রিপোর্ট ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে উত্তরপ্রদেশ সরকার লখনউয়ের ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি সিট (SIT) গঠন করে। তদন্তকারী দল অনুদান সংগ্রহ, টাকা গচ্ছিত রাখা এবং হিসাবরক্ষণের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, চম্পত রাই এই প্রক্রিয়ায় পুলিশ ও প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছিলেন। এমনকি অনুদান চুরির বিষয়টি জানতে পেরেই তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে পদক্ষেপ করেন এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই আসল অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। সিট তাদের রিপোর্টে স্পষ্ট করেছে, এই আর্থিক কারচুপির সঙ্গে চম্পত রাই বা অনিল মিশ্রের কোনো যোগসূত্র নেই।
আটজন গ্রেফতার সিটের তদন্তের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ইতিধ্যেই এই চুরির সঙ্গে যুক্ত থাকা আটজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা হলেন— অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রমাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার উপযুক্ত ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।