আমেরিকার শুল্কবাণে কাঁপছে ভারত, ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়!
বার্তা ডেস্কঃ
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (WTO) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক বড় কূটনৈতিক লড়াইয়ে নামল ভারত। সম্প্রতি ভারতীয় কোয়ার্টজ সারফেস পণ্যের আমদানির ওপর ওয়াশিংটন যে অতিরিক্ত ‘শুল্ক-হার কোটা’ (Tariff-Rate Quota) চাপিয়েছে, তা নিয়ে অবিলম্বে আলোচনায় বসতে মার্কিন প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে তলব করেছে নয়াদিল্লি। গত ১৫ আগস্ট থেকে চালু হওয়া এই নতুন কোটা ব্যবস্থা আগামী চার বছর পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানা গেছে।
গত ১৪ আগস্ট WTO-তে পাঠানো একটি চিঠিতে ভারত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত তাদের রফতানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূরণ এবং এতে দিল্লির “যথেষ্ট স্বার্থ” জড়িয়ে রয়েছে। ভারত উভয় দেশের সুবিধাজনক সময়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে।
রফতানিতে বিপুল লোকসানের আশঙ্কা চলতি ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের কোয়ার্টজ সারফেস পণ্য রফতানি করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন মূলত ভারত, ভিয়েতনাম, স্পেন এবং থাইল্যান্ডকে এই পণ্যের প্রধান রফতানিকারক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিশ্বস্ত ‘সেফগার্ডস অ্যাগ্রিমেন্ট’ (Safeguards Agreement)-এর আওতায় ভারত এখন এই অন্যায্য শুল্কের বিরুদ্ধে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা কোয়ার্টজ পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন। মার্কিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশনের (USITC) দাবি, মাত্রাতিরিক্ত আমদানির কারণে আমেরিকার দেশীয় শিল্প সংস্থাগুলি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর আগে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে একই ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এবার চতুর্থ ক্ষেত্র হিসেবে কোয়ার্টজ সারফেস নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে আলোচনায় বসতে চায় ভারত।
মার্কিন শুল্কের চাপ ও বাণিজ্যে বাড়তি উত্তেজনা WTO-এর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো উন্নয়নশীল দেশ থেকে যদি মোট আমদানির ৩ শতাংশের কম পণ্য আসে এবং সামগ্রিকভাবে সেই দেশগুলোর অংশ ৯ শতাংশ অতিক্রম না করে, তবে তাদের ওপর এই ধরনের সুরক্ষামূলক শুল্ক চাপানো যায় না। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিয়ম উপেক্ষা করেই ওয়াশিংটন এই নীতি জারি রেখেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে টানাপোড়েন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘ধারা ৩০১’-এর আওতায় জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে ভারতীয় পণ্যের ওপর ইতোমধ্যেই ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের তালিকায় থাকার কারণে ভারতের পণ্যে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর একটি প্রস্তাবিত আইন নিয়ে জল্পনা চলছে।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চললেও মার্কিন নীতিতে শিথিলতার কোনো লক্ষণ নেই। গত সপ্তাহে ভারতসহ প্রায় ৪০টি দেশের বিরুদ্ধে চিনা পণ্য অবৈধভাবে গন্তব্যে পৌঁছানোর অভিযোগ তুলে একটি ‘ছায়া পণ্য স্থানান্তর নেটওয়ার্ক’-এর তকমা দিয়েছে ওয়াশিংটন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সহায়তায় এই ধরনের চালান চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বাইডেন-ট্রাম্প প্রশাসন।