চোখের সামনেই স্বামীর খুন! ছেলের হাতেই শেষ সব, বিচার চেয়ে লড়ছেন মা
বার্তা ডেস্কঃ
সম্পত্তির লোভে নিজ বাবাকে নির্মমভাবে হত্যার অপরাধে ছেলে অমিত কোলে ও বৌমা পূজা কোলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে চন্দননগর মহকুমা আদালত। ৬৪ বছর বয়সী মা সাবিত্রী কোলের নির্ভীক সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করেই বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের ৬ জুলাই রাতে, তারকেশ্বর থানার গৌরবাটি গ্রামে। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে সত্তরোর্ধ্ব আদিত্য কোলে দোতলায় নিজের ঘরে ঘুমোতে যান। রাত ১টা নাগাদ স্বামীর ঘর থেকে গোঙানির শব্দ পেয়ে স্ত্রী সাবিত্রী দেবী বের হতে গিয়ে দেখেন তাঁর ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। পরবর্তীতে নাতির সাহায্যে দরজা খুলে তিনি স্বামীর ঘরে ঢুকে দেখেন, স্ত্রীর প্ররোচনায় ছেলে অমিত দস্তানা পরে বাবার বুকের ওপর বসে গলা টিপে হত্যা করছে। একইসঙ্গে বৌমা পূজা শাশুড়িকেও মেরে ফেলার প্ররোচনা দিচ্ছিল। বিপদ বুঝে সাবিত্রী দেবী অন্ধকারেই পালিয়ে ১০ মিনিটের দূরত্বে থাকা দেওরের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং পুরো ঘটনা জানান।
পরবর্তীতে তারকেশ্বর থানায় ছেলে ও বৌমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ ১৯ জনকে সাক্ষী রেখে দ্রুত চার্জশিট জমা দেয়। আদালত ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। চন্দননগর আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক মানবেন্দ্র মোহন সরকার অভিযুক্ত অমিত কোলেকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় এবং পূজা কোলেকে ৩০২/১০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন।