চিনির বাজারে কারসাজি রুখতে মাঠে ১০ দল, মিলের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশন!
বার্তা ডেস্কঃ
দেশে চিনির হঠাৎ আকাশছোঁয়া দাম বৃদ্ধি এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠতেই কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার। মিলগুলোতে চিনির প্রকৃত মজুত খতিয়ে দেখতে এবং মজুতদারি বন্ধ করতে দেশজুড়ে ১০টি বিশেষ কেন্দ্রীয় টিম মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ২০ জুলাই থেকে ২০ আগস্টের (২০২৬) মধ্যে চিনির দাম প্রতি কেজিতে ৪৮.১৮ টাকা থেকে লাফিয়ে ৫৫.৭০ টাকায় পৌঁছেছে। সরকারের সর্বশেষ মূল্যায়নে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিকে পুরোপুরি ‘মানবসৃষ্ট সংকট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বেশ কিছু চিনিকল খাতায়-কলমে বিক্রি দেখালেও বাস্তবে চিনি বাজারে না ছেড়ে আড়াল করে রাখছে এবং মুনাফা লুটতে কৃত্রিম অভাব তৈরি করছে।
সরকারের কড়া পদক্ষেপ ও মজুত সীমা:
- ১০টি কেন্দ্রীয় টিম: এই প্রতিনিধি দলগুলি বিভিন্ন রাজ্যে সফর করে চিনিকলের ঘোষিত তথ্যের সাথে সরেজমিনে প্রকৃত মজুতের মিল রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করবে।
- ব্যবসায়ীদের ওপর কড়াকড়ি: ১ আগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সব চিনি ব্যবসায়ীদের জন্য সর্বোচ্চ ৪০০ টন মজুতের সীমা (Stock Limit) নির্ধারণ করা হয়েছে।
- পাইকারি ক্রেতাদের নিয়ম: আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ১৫ দিনের বেশি সময়ের চিনি মজুত করে রাখতে পারবেন না।
দাম বাড়ার আসল কারণ কী? সরকার জানিয়েছে, আবহাওয়ার কারণে ফসলের ক্ষতি (রেড রট ও টপ বোরার রোগ এবং অতিরিক্ত বৃষ্টি), প্রত্যাশার চেয়ে কম উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ঘাটতির কারণেই কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। তবে ইথানল উৎপাদনের কারণে চিনি সংকট তৈরি হচ্ছে—এমন দাবি খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ইথানলে চিনির ব্যবহার ২২-২৩ সালের ১২ শতাংশ থেকে কমে ২৫-২৬ সালে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
উৎসবের মরসুমে আমদানির আশ্বাস ও নতুন মাড়াই: অক্টোবরে নতুন মাড়াই মরসুম শুরু হওয়ার আগে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে দেশে পর্যাপ্ত চিনি রয়েছে। সেপ্টেম্বরেই বাজারে প্রায় ৩৫ লক্ষ টন চিনি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার কয়েকটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে: ১. শুল্কমুক্ত আমদানি: উৎসবের মরসুমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ লক্ষ টন অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্ত (Duty-free) আমদানির ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এই আমদানি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২. আগেভাগে আখ মাড়াই: চিনি মিলগুলিকে ১৫ অক্টোবরের আগেই মাড়াই শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অক্টোবরের মধ্যেই স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ লক্ষ টন চিনি উৎপাদন করা সম্ভব হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে—দেশেই পর্যাপ্ত চিনি রয়েছে। অসাধু উপায়ে যারা বাজারে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি করার চেষ্টা করছে, রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।