AIIMS-এর গাফিলতিতে ১৪ বছর অপেক্ষার প্রহর! মৃত্যুর মুখে দাঁড়ানো কিশোরীর পাশে কেউ নেই?
বার্তা ডেস্কঃ
লখীন্দরের প্রাণ ফেরাতে বেহুলার ভেলা ভাসানোর গল্প তো সবার জানা। রাজস্থানের কোটার বাসিন্দা মুকেশ পারিয়ানির লড়াইও যেন কিছুটা সেরকমই। হৃদযন্ত্রের জটিল ব্যাধি (VSD ও পালমোনারি অ্যাট্রেশিয়া) নিয়ে জন্ম নেওয়া মেয়ে তানভি পারিয়ানিকে বাঁচাতে গত ১৪ বছর ধরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ বারবার পাড়ি দিয়েছেন দিল্লির AIIMS হাসপাতালে। কিন্তু বাবার অভিযোগ, বছরের পর বছর হাসপাতালের চক্কর কেটে এবং টাকা খরচ করেও আজ পর্যন্ত মেলেনি কাঙ্ক্ষিত অস্ত্রোপচার। বদলে জুটেছে শুধুই একের পর এক তারিখ।
২০১২ সালে মাত্র দুই বছর বয়সে তানভিকে প্রথম দিল্লি AIIMS-এ আনা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের জটিলতা কাটাতে ‘ইউনিফোকালাইজেশন অ্যান্ড কনডুইট’ অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, যার খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ১.২৫ লক্ষ টাকা। ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে একাধিকবার অপারেশনের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হলেও শেষ মুহূর্তে নানা অজুহাতে পিছিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি ইমপ্ল্যান্টের নামে এক ব্যক্তি ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন বলেও অভিযোগ বাবার।
এদিকে, ২০১৮ সালে AIIMS-এর চিকিৎসকেরা নথিতে তানভির অবস্থা অত্যন্ত জটিল বলে উল্লেখ করেন। হাসপাতালের কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ড. শচীন তলওয়ারের দাবি, তানভির ফুসফুসে রক্ত সরবরাহকারী প্রধান ধমনিগুলি কার্যত অনুপস্থিত থাকায় অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, তানভির অবস্থা দিন দিন আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। অনবরত জ্বর, কাশি এবং অতিরিক্ত ওজন হ্রাসের কারণে তার স্কুলে যাওয়াও বন্ধ। হতাশ হয়ে মুকেশ বাবু ২০২৫ সালে AIIMS কর্তৃপক্ষ এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে (PMO) লিখিত অভিযোগ জানান। Hyderabad-এর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তানভির চিকিৎসার জন্য প্রায় ৬ লক্ষ টাকা প্রয়োজন, যা এক সামান্য বস্ত্র ব্যবসায়ীর পক্ষে জোগাড় করা আসাম্ভব।
বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হতেই দিল্লি AIIMS-এর মিডিয়া সেল জানিয়েছে, এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় এবং দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ১৪ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর আদৌ কি তানভি নতুন জীবন পাবে? প্রশ্ন তুলছে তার পরিবার।