নবান্নে রাস্তার বৈঠক, ওদিকে কাঁধে খাটিয়া! স্বাধীনতার ৭৭ বছর পর এ কোন বাংলা?

বার্তা ডেস্কঃ

শহরাঞ্চলের বেহাল রাস্তা সংস্কার নিয়ে সম্প্রতি নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর আগেই তিলোত্তমার রূপ ফেরাতে দেওয়া হয়েছে কড়া নির্দেশ। তবে শহরের এই মেকওভারের ভিড়ে গ্রামবাংলার এক নির্মম ও করুণ ছবি ফের প্রকাশ্যে এল, যা পরিকাঠামোর কঙ্কালসার অবস্থাকে তুলে ধরেছে।

ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের রাউতগ্রামের বামপুকুর পাড় এলাকার। সামান্য বৃষ্টিতেই যেখানে শহুরে জীবন থমকে যায়, সেখানে এই গ্রামের ৫০টি পরিবারের দৈনন্দিন লড়াই চোখে জল আনার মতো। দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও আজও গ্রামে তৈরি হয়নি কোনো পাকা রাস্তা। বর্ষা এলেই গোটা পথ লাল কাদার জলাভূমিতে পরিণত হয়। ফলে গ্রামে কোনো চারচাকা গাড়ি, এমনকী জরুরি পরিষেবার অ্যাম্বুলেন্স ঢোকাও একপ্রকার আসাম্ভব।

সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হয় জরুরি চিকিৎসার সময়। কোনো গর্ভবতী নারী বা মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে গ্রামের পুরুষদের কাঁধই শেষ সম্বল। হাঁটুকাদা ঠেলে খাটিয়ায় করে মুমূর্ষু রোগীকে কয়েক কিলোমিটার বয়ে নিয়ে আসা হয় মূল রাস্তায়। সেখান থেকে অন্য গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। এই টানাটানির মাঝে বহু সময় পার হয়ে যায় মূল্যবান জীবনের গোল্ডেন আওয়ার।

শুধু চিকিৎসা নয়, এই বেহাল রাস্তার কোপ পড়েছে শিশুদের ভবিষ্যতেও। কাদার দাপটে বর্ষার দিনগুলোতে থমকে যায় পুঁচকেদের স্কুলে যাওয়া। স্বাধীনতার সাত দশক পার হওয়ার পরেও মৌলিক পরিকাঠামোর এই দূরবস্থা ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *