হিংসা নয়, সংঘাতের পথে নয়, প্রতিবাদ হোক সংবিধানের শক্তিতে!
বার্তা ডেস্কঃ
লখনউয়ের বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং যুবসমাজকে অসাংবিধানিক ও হিংসাত্মক পথ এড়িয়ে সংবিধানের আওতায় থেকে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বি আর আম্বেদকরের ‘শিক্ষা, আন্দোলন ও সংগঠন’ মন্ত্রের ওপর জোর দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সমাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় হিংসা বা অরাজকতাকে তিনি সরাসরি ‘অরাজকতার ব্যাকরণ’ হিসেবে আখ্যা দেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে ন্যায়বিচার, সমতা ও সৌহার্দ্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হতে হবে। প্রকৃত শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য বা চাকরির খোঁজে সীমাবদ্ধ না রেখে, যুবসমাজকে চাকরিদাতা ও দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের মূল কারিগর হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এই প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের কথা স্মরণে এনে তিনি শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা ও সমাজকল্যাণে অর্জিত জ্ঞান ব্যবহারের বার্তা দেন।
বিগত এক দশকে ভারতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সেমিকন্ডাক্টর নির্মাণ, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেমের হাত ধরে দেশ আজ আত্মনির্ভরশীলতার পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। গত ১২ বছরে গবেষণা খাতে খরচ দ্বিগুণ করার পাশাপাশি ৩৪ বছর পর নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করা হয়েছে। ভারত আজ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্ট-আপ হাব হিসেবে গড়ে উঠেছে এবং সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও মহাকাশে মানুষ পাঠানোর মতো সাহসী মিশনে হাত দিয়েছে।
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে রাজনাথ সিং বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কোনো দেশকে ধনী বানাতে পারে, কিন্তু মহান করে তোলে তার সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তরুণদের ‘টিম ইন্ডিয়া’ হিসেবে একজোট হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান ভারত বিশ্ব দরবারে নিজের নিয়ম নিজেই তৈরি করে।