দুধকাণ্ডে সরব ছিলেন যাঁরা, শিয়ালদহের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে কেন নীরব?

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: তারাপীঠ ও নিউ মার্কেটের হোটেলের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি এখনো টাটকা। তার মধ্যেই ব্যস্ত সকালে শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরের ফুড প্লাজায় ঘটল বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড। একাধিক খাবারের দোকান এবং সেগুলিতে প্রচুর পরিমাণে রান্নার তেল ও দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। এই ঘটনার পরেই শহরের ফুটপাথের অনিয়ন্ত্রিত জবরদখল ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

সম্প্রতি ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ফুটপাথে এক মহিলার দুধ গরম করার ঘটনা এবং তার প্রেক্ষিতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়েছিল। সেই বিতর্ক টেনে এনে মন্ত্রী এবার অত্যন্ত ধীরস্থির অথচ কড়া ভাষায় বিরোধীদের জবাব দিলেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “ফুটপাথে বারবার কেন আগুন লাগছে, তা নিয়ে আমি কেন চিৎকার করছিলাম? রাস্তার পাশে ট্রান্সফরমারের গায়ে খোলা উনুন জ্বালিয়ে লুচি ভাজা হচ্ছে! সেদিন ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে দুধ গরম করার বিষয়ে কথা বলায় আমাকে তো তুলোধনা করেছিলেন আপনারা। কিন্তু বাস্তব হলো, এই ধরনের অসাবধানতা থেকেই যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। পানের দোকান, চায়ের দোকান—সব ত্রিপলে ঢাকা। সামান্য একটা দেশলাইয়ের কাঠি পড়লেই গোটা মার্কেট ছাই হয়ে যাবে।”

শহরের ফুটপাথে অনিয়ন্ত্রিত ‘হকার-রাজ’ এবং মানুষের চলাচলের অধিকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা স্মরণ করিয়ে দেন পুরমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, “হকারদের আমরা বারবার বলেছি, ফুটপাথের তিন ভাগের এক ভাগ অংশ ব্যবহার করো, বাকিটা পথচারীদের জন্য ছেড়ে দাও। সুপ্রিম কোর্টেরও নিয়ম রয়েছে যে পথচারীদের হাঁটার জায়গা দিতে হবে। ব্যস্ত রাস্তায় খোলা স্টোভে দুধ গরম করার অধিকার কারো নেই।”

ফুটপাথ দখলমুক্ত করা প্রসঙ্গে আরও কড়া অবস্থান নিয়ে মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, জয়নগর বা ক্যানিংয়ের নিজের বাড়ি ভাড়া দিয়ে কলকাতায় এসে ফুটপাথ দখল করা এবং সেখানে খোলাখুলি মাদকের ইনজেকশন নেওয়ার সংস্কৃতি কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না।

যদিও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ঘটনার পর সরকার সেই মহিলাকে থাকার ও কাজের বন্দোবস্ত করে দিয়েছে। নিজের মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে অগ্নিমিত্রা স্বীকার করেন, “হয়তো আমার সুরটা আরও নরম হতে পারত, বা আরেকটু বুঝিয়ে বলা যেত।” তবে শহরের সৌন্দর্য, শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার যে কোনো আপস করবে না, তাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি।

বিরোধীদের সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রীর প্রশ্ন, “যাঁরা শোরগোল তুলেছিলেন, তাঁরা আজকে বলুন তো শিয়ালদহ স্টেশনে কেন আগুনটা লাগল?” তিনি আরও যোগ করেন, “সেদিন বিরোধীদের কান্না দেখেছি, কিন্তু ওই পরিবারের কাছে এক বাটি দুধ নিয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। সবাই রাজনীতি করেছে। অতীতে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট কিংবা তৃণমূলের আমলে যাঁরা ফুটপাথ শেষ করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে অন্তত আমাদের মানবিকতার পাঠ নিতে হবে না।”

সব মিলিয়ে, শিয়ালদহের অগ্নিকাণ্ড কলকাতার ফুটপাথ উচ্ছেদ ও নিরাপত্তা বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *