সুপ্রিম নির্দেশে কিছুটা স্বস্তি, তবুও কি চাকরি ফিরবে? মুখ্যমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে চাকরিহারাদের প্রশ্ন!
বার্তা ডেস্কঃ
এসএসসি (SSC) শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় রাজ্য সরকারকে বাড়তি সময় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মে-র মধ্যে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের মোট ৩৫ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আদালতের এই নির্দেশে সাময়িক স্বস্তি মিললেও দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। একই সঙ্গে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
‘যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর পক্ষ থেকে মেহবুব মণ্ডল এবং চিন্ময় মণ্ডল জানান, শীর্ষ আদালতের দেওয়া এই সময়সীমা খুব বেশি নয়। ৩১ মে ২০২৭-এর পর আদালত আর কোনও সময় বাড়াবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে। দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং মানসিক চাপের কারণে অনেকেই নতুন পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি, ফলে আদালত নির্ধারিত সময় শেষ হলে তাঁদের চাকরি জীবনের শেষ কোথায়—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই জটিলতা দূর করতে সরকারকে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিলের পর সুপ্রিম কোর্টের অনুমতিক্রমে কাজ চালিয়ে যাওয়া শিক্ষকরা এই ছাড়পত্র পেলেও গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি শিক্ষাকর্মীরা গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ কর্মহীন। ২০২৬-এর মার্চে নতুন পরীক্ষা হলেও অগস্টের শেষ পর্যন্ত ফল প্রকাশিত হয়নি। আনন্দলাল আদর্শ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন গ্রুপ-সি কর্মী সুজয় সর্দারের মতো অনেকেই দেড় বছর ধরে বেতনহীন অবস্থায় তীব্র আর্থিক অনটনে দিন কাটাচ্ছেন।
চাকরিহারাদের বক্তব্য, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় এলে আইনি পথে ‘যোগ্য’দের চাকরি বাঁচানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। সরকার পরিবর্তনের তিন মাস পার হয়ে গেলেও এখনও কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ না থাকায়, তাঁরা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এবং দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন।