ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে দমকলের নোটিস, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তলব!
বার্তা ডেস্কঃ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে নোটিস পাঠাল দমকল বিভাগ। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা এবং অনুমতিপত্রের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। নোটিস পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে দমকল দফতরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনে পরিদর্শনে যান দমকলের আধিকারিকেরা। তৃণমূলের ব্যবহৃত দু’টি তলাসহ পুরো ভবনটিই ঘুরে দেখেন তাঁরা। দমকলের নোটিসে মূলত ছ’টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে:
- শংসাপত্রের অভাব: পরিদর্শনের সময় বৈধ অগ্নিনির্বাপণ শংসাপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন কর্তৃপক্ষ। গত ১০ অগস্টই এর মেয়াদ শেষ হয়েছে।
- অবৈধ নির্মাণ: পার্কিংয়ের সামনে মূল নকশা-বহির্ভূত একটি নির্মাণ রয়েছে, যা দমকলের গাড়ি চলাচলে বাধা দিতে পারে।
- সুরক্ষাজনিত খামতি: আটতলার অফিসের ক্যান্টিনে একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ছিল। এছাড়া জলাধারের পাম্পের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
- যাতায়াত ও সতর্কতার অভাব: আটতলার করিডরে যাতায়াতের জন্য মাত্র একটি গেট রয়েছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সমস্যা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি সাত ও আটতলায় পর্যাপ্ত ফায়ার অ্যালার্মের ব্যবস্থা ছিল না।
সম্প্রতি ওই ভবনে দলীয় সাইনবোর্ড ভাঙাকে কেন্দ্র করে গোলমালের ঘটনায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিষেকসহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর হয়। মঙ্গলবার ওই থানায় প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তৃণমূল সাংসদকে। এর পরেই ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পৌঁছায় দমকলের এই নোটিস।
দমকলের এই পদক্ষেপকে ‘সার্কাস’ বলে কটাক্ষ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ভোটের পর আলিপুরে রহস্যজনক ভাবে ৪ হাজার ইভিএম পুড়ে যাওয়ার আগে দমকল এমন সক্রিয়তা দেখালে তা রক্ষা পেত। থানা থেকে বেরিয়ে তিনি আরও মন্তব্য করেন, রাজ্যের বিজেপি সরকার নিউ মার্কেটের হোটেলের অগ্নিকাণ্ড কিংবা ইভিএম ভস্মীভূত হওয়ার ঘটনায় কোনো ফায়ার অডিট করায়নি, অথচ এখানে রাজনীতি করা হচ্ছে।