ডেঙ্গি মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্ত পরীক্ষার নির্দেশ!
বার্তা ডেস্কঃ
ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া রুখতে তৎপর স্বাস্থ্য ভবন: বাড়ি বাড়ি নজরদারি থেকে বিনামূল্যে রক্তপরীক্ষার নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ কমাতে এবং ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলা ও পুরসভাগুলির জন্য বিস্তারিত কার্যপদ্ধতি (SOP) এবং নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ্য ভবন।
নতুন এই নির্দেশিকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরের রোগীর খোঁজ নেওয়া থেকে শুরু করে উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত রক্তপরীক্ষা করানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। গ্রাম, শহর ও মফস্সল—সর্বত্রই আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেবেন। কোনও রোগীর ৪৮ ঘণ্টার বেশি জ্বর থাকলে তা অবিলম্বে এএনএম (ANM) বা মেডিক্যাল অফিসারকে জানাতে হবে।
স্বাস্থ্য ভবনের মূল নির্দেশাবলি:
- বিনামূল্যে পরীক্ষা: সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে ‘এলিসা’ (ELISA) পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। সরকারি পরিকাঠামো না থাকলে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের (CMOH) প্রয়োজনে বেসরকারি ল্যাব বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্যে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
- ব্যাপক প্রচার ও ফিভার ক্যাম্প: আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রক্তপরীক্ষা ও সচেতনতার ওপর ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। যে অঞ্চলে জ্বরের প্রকোপ বেশি, সেখানে সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে বিশেষ ‘ফিভার ক্যাম্প’। সেখানে ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্টদের উপস্থিতি এবং বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান সুনিশ্চিত করতে হবে।
- ম্যালেরিয়া পরীক্ষা ও সাফাই অভিযান: ডেঙ্গির পাশাপাশি ম্যালেরিয়ার পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডেঙ্গি আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত উৎসস্থল ধ্বংস করা, বিশেষ সাফাই অভিযান চালানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী থার্মাল ফগিং ও স্প্রে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- প্রতিদিনের রিপোর্ট: দৈনিক কতজন জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং কতজনের পরীক্ষা হচ্ছে, সেই রিপোর্ট প্রতিদিন স্বাস্থ্য ভবনে পাঠাতে হবে।
হাসপাতাল ভর্তি ও প্লেটলেট সংক্রান্ত নির্দেশ: স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে CBC, PCV এবং প্লেটলেট কাউন্টের স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে। প্লেটলেট ৫০ হাজারের নীচে নামলে তা ‘স্লাইড মেথড’-এ নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে রোগীকে কালবিলম্ব না করে হাসপাতালে ভর্তি করার উদ্যোগ নিতে হবে।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য ভবনের বৈঠকে জানানো হয় যে গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কম (গত বছর এই সময়ে আক্রান্ত ছিলেন ৭,৬০০ জনের বেশি, এ বছর যা প্রায় ৪,০০০)। তবে মুর্শিদাবাদের নওদা বা নদিয়ার চাকদহের মতো কিছু ব্লকে এখনও সংক্রমণ রয়েছে। তাই আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সামান্য জ্বরকেও অবহেলা করা না হয় এবং কোনও তথ্য না আড়াল করে সঠিক চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হয়।