পুজোর মুখে ভাসছে দক্ষিণবঙ্গ, ডিভিসির জলে ডুববে ৪ জেলা!
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা: উৎসবের মরশুমের ঠিক মুখেই দক্ষিণবঙ্গে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের জেরে একদিকে যেমন একটানা মুষলধারে বৃষ্টি চলছে, অন্যদিকে তেমনই দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC)-র একাধিক বাঁধ থেকে প্রচুর পরিমাণে জল ছাড়ায় আতঙ্ক মারাত্মক রূপ নিয়েছে।
১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে সূত্রের খবর, মাইথন ব্যারেজ থেকে প্রায় ৫৫ হাজার কিউসেক এবং পাঞ্চেত থেকে ৬৫ হাজার কিউসেক—অর্থাৎ মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক জল ইতিমধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঝাড়খণ্ড, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের নদীগুলির জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকেও জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবং সামনে আরও জল ছাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কোন কোন জেলা? দামোদরের নিম্ন অববাহিকায় অবস্থিত চার জেলা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে:
- পূর্ব বর্ধমান: জামালপুর, রায়না এবং খণ্ডঘোষের মতো নিচু এলাকাগুলিতে প্লাবনের আশঙ্কা মারাত্মক।
- হুগলি: আরামবাগ, পুরশুড়া ও খানাকুল সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জল ঢুকে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
- হাওড়া: আমতা ও উদয়নারায়ণপুর সংলগ্ন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হতে পারে।
- পশ্চিম বর্ধমান: নদীর সংলগ্ন এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, বাঁকুড়ার পাত্রসায়র ও সোনামুখী এবং দুর্গাপুরের একাধিক নিচু অঞ্চলে বন্যার জল ঢোকার জলজ্যান্ত আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন চ্যালেঞ্জ অতীতে DVC-র জল ছাড়া নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের টানাপোড়েন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। জল ছাড়াকে প্রায়শই ‘ম্যান মেড বন্যা’ বলে আখ্যা দেওয়া হতো। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের সামনে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় সামাল দেওয়া এক মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসে যদি বৃষ্টির তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়, তবে উৎসবের এই আবহেই দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষকে কঠিন জলযন্ত্রণা ও বন্যার মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।