চন্দ্রগুপ্তের গুরু হয়েও কেন আগুনে পুড়লেন চাণক্য!

বার্তা ডেস্কঃ

ভারতের ইতিহাসে কূটনীতি ও রাজনীতির মহাগুরু কৌটিল্য ওরফে চাণক্যের জীবন কাহিনি আজও এক বিস্ময়কর অধ্যায়। নন্দ বংশের সম্রাট ধননন্দ কর্তৃক চরম অপমানিত হওয়ার পর তিনি তরুণ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে তক্ষশীলায় শিক্ষিত করে তোলেন এবং কৌশল প্রয়োগ করে মগধের সম্রাট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। রাজাকে বিষপ্রয়োগে শত্রুমুক্ত রাখতে চাণক্য প্রতিদিন চন্দ্রগুপ্তের খাবারে সামান্য বিষ মেশাতেন। কিন্তু অজান্তে সেই বিষাক্ত খাবার গর্ভবতী রানি দুর্ভারা খেলে তাঁর জীবন বিপন্ন হয়। সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে চাণক্য রানির গর্ভচ্ছেদ করে শিশু বিন্দুসারকে বের করে আনেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে চাণক্যের জীবনে নেমে আসে এক চরম ট্র্যাজেডি।

সম্রাট বিন্দুসার বড় হয়ে ওঠার পর সুবন্ধু নামের এক কুচক্রী মন্ত্রীর চক্রান্তে চাণক্যের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অপমানে ও ক্ষোভে বৃদ্ধ চাণক্য সংসার ত্যাগ করে স্বেচ্ছামৃত্যুর উদ্দেশ্যে ধ্যানবেদী তৈরি করেন। পরবর্তীতে এক বৃদ্ধা দাসীর মুখে নিজের জন্মের প্রকৃত সত্য জানতে পেরে অনুতপ্ত বিন্দুসার চাণক্যের কাছে ক্ষমা চান। তবে রাজপুত্র অনুশোচনায় দগ্ধ হলেও কুচক্রী সুবন্ধুর ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। সে আড়ালে চাণক্যের ধ্যানবেদীতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং জ্বলন্ত অগ্নিশিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যান এই মহান কূটনীতিবিদ। রাজক্ষমতার রক্তাক্ত ইতিহাস চাণক্যের এই মর্মান্তিক পরিণতির মাধ্যমেই যেন পূর্ণতা পেয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *