মালদহের মানচিত্রই মুছে দিচ্ছে গঙ্গা! ভিটেহারা দুই লক্ষ মানুষ, নবান্নে উদ্বেগের প্রহর

বার্তা ডেস্কঃ

জল বাড়লে ভাসছে গ্রাম, আর কমলে ভাঙছে বসতি—গঙ্গার এই মারাত্মক উভমুখী সংকটে দিশাহারা মালদহের বিস্তীর্ণ এলাকা। সম্প্রতি ভূতনির কেশরপুর কালুটোনটোলা অঞ্চলের নদী বাঁধ ও রিং বাঁধ জলের তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় প্রায় দুই লক্ষ মানুষ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন। জল ও খাবারের তীব্র সংকটের মুখে পড়ে অনেকে উচু বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। রতুয়া ও মানিকচকের এই সংকটজনক পরিস্থিতি নিয়ে নবান্ন থেকে জরুরি রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। সেচ প্রতিমন্ত্রী, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে চাল, ত্রাণসামগ্রী, পানীয় জল ও স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছানোর পাশাপাশি ফ্লাড রিলিফ সেন্টার চালুর নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বালির বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানো এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের উদ্দেশ্যে সেচ ও নদী ভাঙন রোধে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় তহবিলের সহায়তায় স্থায়ী রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর। ক্যানপুর আইআইটি-র বিশেষজ্ঞ দল এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলির সাথে সমন্বয় করে এক থেকে দুই বছরের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্গতদের উদ্ধারকাজ, চিকিৎসা শিবির ও রান্না করা খাবার সরবরাহে গতি এনে প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *