কেরল সফরে মর্মান্তিক মৃত্যু! লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল ৮ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ার
বার্তা ডেস্কঃ
September 5, 202612:32 pm
কেরলের কাইপামঙ্গলমে ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তামিলনাড়ুর আট জন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া। শুক্রবার রাত পৌনে বারোটা নাগাদ জাতীয় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পণ্যবাহী লরির পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে পড়ুয়াদের দ্রুতগামী চারচাকা গাড়িটি। ছুটির আনন্দে ঘুরতে বেরিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হলেন ওই তরুণরা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্মাণাধীন ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ডাইভারশন সংলগ্ন এলাকায় একটি পণ্যবাহী লরি পার্ক করা ছিল। গভীর রাতে প্রচণ্ড গতিতে আসা গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি লরির তলায় ঢুকে যায়। সংঘর্ষের বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গাড়িটি এতটাই দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছিল যে ভেতর থেকে যাত্রীদের বের করতে উদ্ধারকারীদের গ্যাস কাটার ব্যবহার করতে হয়।
নিহতরা সকলেই তামিলনাড়ুর দিন্দিগুলের ‘পিএসএনএ কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’-র ছাত্র বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে মৃত আটজনের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় মিলেছে—সালেমের বিশ্ব, দিন্দিগুলের সূর্য ও যুব সঞ্জিত, এবং মাদুরাইয়ের সন্তোষ ও প্রসন্ন। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। ইতোমধ্যেই নিহতদের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। কাইপামঙ্গলম থানার পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য দেহগুলি ত্রিশূর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
এদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাকেই দায়ী করছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, রাস্তা মেরামতির কাজ চলায় যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হলেও সেখানে কোনো সতর্কীকরণ বোর্ড বা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ছিল না। ফলে রাতের অন্ধকারে পথ বুঝতে না পেরে দূর-দূরান্তের চালকরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং আকছার দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে গাড়িটির অতিরিক্ত গতিও এই দুর্ঘটনার কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।