সাজা মকুবের পর বীরের সম্মান দিয়ে বরণ, ঝাড়গ্রামে তৃণমূলের মেগা মিছিল ঘিরে চাঞ্চল্য!

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ঝাড়গ্রামের দিয়াশী গ্রামে ছয় সিপিএম কর্মী খুনের মামলায় অভিযুক্ত ৪৫ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় সংশোধনাগার থেকে তাঁদের মুক্তির পর ঝাড়গ্রামের শিলদা বাজারে এক বর্ণাঢ্য মিছিলের আয়োজন করে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। জামিন পাওয়া ব্যক্তিদের গলায় মালা পরিয়ে এবং স্লোগান দিয়ে বরণ করে নেওয়ার এই ঘটনাটি বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপট
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৩ সালের মে মাসে, যখন তৎকালীন অতিরিক্ত জেলাশাসক মহেন্দ্রনাথ হেমব্রমের খুনের বদলা নিতে ছয় সিপিএম কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, দিয়াশী ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের ছয় ব্যক্তিকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে অঙ্গচ্ছেদ করে হত্যা করা হয়েছিল। এই দীর্ঘমেয়াদী মামলায় গত বছর নিম্ন আদালত ৪৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেও উচ্চ আদালত সম্প্রতি তাঁদের শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করে।
তৃণমূলের সক্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাব
মুক্ত আসামিদের সংবর্ধনা মিছিলে প্রথম সারিতে দেখা গেছে তৃণমূল নেতা ছত্রধর মাহাতো এবং বেলপাহাড়ি ব্লক তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। সাজাপ্রাপ্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে ছত্রধরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে জঙ্গলমহলের পুরনো রাজনৈতিক কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব স্থানীয় আবেগ ও সংগঠনের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে, যা আগামী দিনে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এক ঝলকে
- ১৯৯৩ সালের দিয়াশী গ্রাম হত্যাকাণ্ডে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৪৫ জন কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।
- মুক্তির পর ঝাড়গ্রামের শিলদায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁদের মালা পরিয়ে বীরোচিত সংবর্ধনা ও মিছিল করা হয়।
- মিছিলে নেতৃত্ব দেন তৃণমূল নেতা ছত্রধর মাহাতো ও বেলপাহাড়ি ব্লকের দলীয় পদাধিকারীরা।
- দীর্ঘ তিন দশক ধরে চলা এই মামলাটি জঙ্গলমহলের তৎকালীন বাম-বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বড় ঘটনা।