ভোটের ময়দানে নারীবাহিনী এবং শীতলকুচির রেকর্ড জয়জয়কার

প্রথম দফার নির্বাচনে বাংলার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক অভাবনীয় ছবি ধরা পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার ২৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে পুরুষদের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অবাক করার বিষয় হলো, এসব কেন্দ্রের অধিকাংশতেই মোট ভোটার তালিকায় পুরুষদের সংখ্যা বেশি থাকলেও বুথমুখী হওয়ার দৌড়ে নারীরাই বাজিমাত করেছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

রেকর্ড ভোটদানের পরিসংখ্যান

এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হার আগের সব নজিরকে ছাপিয়ে গিয়েছে। কোচবিহারের শীতলকুচি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৯৭.৫৩ শতাংশ ভোট রেকর্ড করা হয়েছে, যা রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল। শুধু শীতলকুচিই নয়, ভগবানগোলা, রানিনগর এবং রঘুনাথগঞ্জের মতো এলাকাগুলোতেও ভোটদানের হার ৯৬ শতাংশের উপরে। কমিশনের তথ্য বলছে, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ৪৪টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৯৫ শতাংশেরও বেশি।

তালিকায় কাটছাঁট বনাম বুথের ভিড়

এসআইআর বা বিশেষ পর্যালোচনার কারণে এবার ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৭ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও ভোটদাতার সংখ্যা গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ২১ লক্ষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অর্থ হলো, যারা আগে অনিয়মিত ছিলেন বা ভোটকেন্দ্রে আসতেন না, তারাও এবার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে সক্রিয় হয়েছেন। গড়ে প্রতিটি কেন্দ্রে ২০২১ সালের তুলনায় অন্তত ১৪ হাজার ভোট বেশি পড়েছে, যা রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দেয়।

তৃণমূল স্তরে প্রভাব

নারীদের এই বিপুল অংশগ্রহণ এবং সার্বিক উচ্চ ভোটদানের হার স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের নিঃশব্দ বিপ্লব বা তীব্র মেরুকরণ কাজ করেছে। এই প্রবণতা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রভাব না কি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা— কোন টানে মহিলারা বুথে ভিড় জমিয়েছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

এক ঝলকে

  • প্রথম দফার ২৩টি আসনে পুরুষদের তুলনায় মহিলা ভোটারদের ভোটদানের হার অনেক বেশি।
  • শীতলকুচি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৯৭.৫৩ শতাংশ ভোট পড়ে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
  • ৪৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটদানের হার ৯৫ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে।
  • ভোটার তালিকায় নাম কমলেও গত নির্বাচনের তুলনায় ভোটদাতার সংখ্যা ২১ লক্ষ বেড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *