জ্বালানির জ্বালায় দিশেহারা আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটের হেঁশেল!

রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম ও চরম সংকটের মুখে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটের কয়েক হাজার পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। সিলিন্ডারের চড়া মূল্য মেটাতে না পেরে এলাকার দুঃস্থ ও আদিবাসী পরিবারগুলি এখন সাবেক আমলের মাটির উনুনেই ফিরতে বাধ্য হচ্ছে। দিনমজুর পরিবারের মহিলারা দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় জঙ্গল থেকে শুকনো কাঠ ও পাতা কুড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। রান্নার কাজে এই হাড়ভাঙা পরিশ্রম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে।
জ্বালানি জোগাড়ে মরিয়া লড়াই
উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধা থাকলেও রিফিল করার সামর্থ্য হারিয়েছেন অনেক গ্রাহক। স্থানীয়দের অভিযোগ, রান্নার গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে বাইরে চলে যাওয়ায় তাঁরা বাধ্য হয়ে ধোঁয়াযুক্ত উনুনে রান্না করছেন। এতে যেমন স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি জঙ্গল থেকে কাঠ জোগাড় করতে গিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে কর্মসংস্থানের অমূল্য সময়। আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটের আদিবাসী গ্রামগুলোতে এখন বাড়িতে সিলিন্ডার থাকলেও তা শোপিস হয়ে পড়ে আছে।
ভোটের ময়দানে উত্তাপ
রান্নার গ্যাসের এই ভয়াবহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজনৈতিক সমীকরণেও। এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বধূরা। দীর্ঘ সময় জঙ্গল চষে জ্বালানি জোগাড়ের এই লড়াইয়ের জবাব তাঁরা আসন্ন দ্বিতীয় দফার ভোটেই দেবেন বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অর্থনৈতিক সংকটের এই আঁচ আসন্ন নির্বাচনে জনমতের ওপর বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে।
- আর্থিক অস্বচ্ছলতায় সিলিন্ডার ছেড়ে মহিলারা জঙ্গল থেকে কাঠ ও পাতা কুড়িয়ে উনুন ধরাচ্ছেন।
- এই দুর্দশার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে দায়ী করে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবারগুলি।
- আসন্ন দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ভোটবাক্সে এই ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা।