পাহাড়ের ভরা মরশুমে বিষাদের সুর! পর্যটন কেন্দ্রে কি এবার কেবলই খাঁ খাঁ শূন্যতা

ভোটের উত্তাপে কার্যত পর্যটনহীন হয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও ডুয়ার্স। প্রতি বছর এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত দার্জিলিং এবং সিকিমে পর্যটকদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় হোটেল ব্যবসায়ীদের। অথচ চলতি বছর চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। পাহাড়ের অধিকাংশ হোটেল ও হোম-স্টে এখন ফাঁকা পড়ে আছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের আঘাত হানছে।

নির্বাচন ও পর্যটন সংকট

পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, লোকসভা নির্বাচনের কারণে যাতায়াতের ওপর কড়াকড়ি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বা পরিবহণ সংকটে পড়ার ভয়ে অনেকেই আগে থেকে করা বুকিং বাতিল করছেন। যেখানে এই সময়ে পর্যটকে ঠাসা থাকার কথা, সেখানে পাহাড়ের হোটেলগুলোতে বর্তমানে মাত্র ১৫ শতাংশ কক্ষ পূর্ণ রয়েছে। ভরা মরশুমে এমন নজিরবিহীন মন্দা আগে কখনও দেখা যায়নি।

ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

পাহাড়ের অর্থনীতি মূলত পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত পর্যটক না আসায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন গাড়ি চালক থেকে শুরু করে ছোট-বড় ব্যবসায়ী ও গাইডরা। যদি নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তবে এই মরশুমের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা এখন কেবল ভোটের দফা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

এক ঝলকে

  • নির্বাচনের জেরে পাহাড় ও ডুয়ার্সে পর্যটন শিল্পে ভয়াবহ মন্দা দেখা দিয়েছে।
  • এপ্রিল-মে মাসের ভরা মরশুমেও পাহাড়ের হোটেলগুলোতে মাত্র ১৫ শতাংশ পর্যটক রয়েছে।
  • যাতায়াত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের আশঙ্কায় পর্যটকরা গণহারে বুকিং বাতিল করছেন।
  • স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকরা আর্থিক দিক থেকে চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *