ছেলের ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় আস্ত স্কুলই গড়ে ফেললেন এই অদম্য মা!

বার্তা ডেস্কঃ

সন্তানের হাসিমুখ আর সুরক্ষিত ভবিষ্যতের জন্য মায়েরা সব বাধা টপকাতে পারেন। তারই এক অনন্য নজির গড়েছেন ত্রিপুরার আগরতলা উইমেন্স কলেজের অধ্যাপক রত্নাবলী রায় সেনগুপ্ত। অটিজমে আক্রান্ত নিজের সন্তানের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা হয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি গড়ে তুলেছেন একটি আস্ত বিশেষ স্কুল— ‘বিদ্যা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’।

বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজনে প্রতিদিন ত্রিপুরা থেকে কলকাতায় যাতায়াত করা রত্নাবলী দেবীর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। আবার নিজের সংসার ও চাকরি ছেড়ে কলকাতায় স্থায়ীভাবে থাকাও সম্ভব ছিল না। এই অবস্থায় কলকাতার একটি স্পেশাল স্কুলের পরামর্শে ২০০৪ সালে আগরতলাতেই কয়েকজন অনুরাগী ও অভিভাবককে সঙ্গে নিয়ে তিনি ‘বিদ্যা’ প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলা এই প্রতিষ্ঠানটি আজ বহু বিশেষ শিশুর মূল ভরসাস্থল। বর্তমানে অটিজম, ডাউন সিনড্রোমসহ বিভিন্ন বিকাশগত সমস্যায় থাকা ২৫ জন শিশু এখানে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। রত্নাবলী দেবী নিজেই প্রতিষ্ঠানটির অবৈতনিক প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করছেন।

কলকাতার নানা বিশেষ স্কুল ঘুরে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (RCI)-র নির্দেশিকা মেনে সাজানো হয়েছে এই স্কুলের পাঠ্যক্রম। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের বাক্‌থেরাপি, আচরণগত উন্নতি, সামাজিক মেলামেশা এবং স্বনির্ভরতার জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং দেওয়া হয় এখানে।

তবে রত্নাবলী দেবীর এই পথচলা কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত পরিবারের হওয়ায় আর্থিক সংকট যেমন রয়েছে, তেমনই প্রতিবেশীদের আপত্তির কারণে বারবার ভাড়া বাড়ি বদলাতে হয়েছে। শিশুদের স্বাভাবিক চঞ্চলতাকে মেনে নিতে না পারাই ছিল স্থানীয়দের আপত্তির মূল কারণ। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও থেমে থাকেননি রত্নাবলী দেবী। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য একটি স্থায়ী আবাসিক স্কুল গড়ে তোলাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য, যেখানে এই শিশুরা সম্পূর্ণ নিরাপদে ও সম্মানের সাথে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *