‘আমাদের দোকান থেকেই কিনতে হবে ওষুধ’! অমানবিক নিদানে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

বার্তা ডেস্কঃ

পূর্ব বর্ধমান: ডাক্তার দেখানোর স্লিপ পেতে হলে বাড়তি ১০০ টাকা জমা রাখতে হবে, আর সেই টাকা ফেরত পেতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে কিনতে হবে ওই দোকানেরই ওষুধ— পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা শহরের শিরীষতলা এলাকার এক ওষুধের দোকানের এমন আজব ‘ফতোয়ায়’ তৈরি হলো চরম উত্তেজনা। রোগী ও স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ওই ওষুধের দোকানের মালিককে আটক করেছে গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিরীষতলার ওই ওষুধের দোকান সংলগ্ন চেম্বারে দীর্ঘদিন ধরে বর্ধমানের এক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ-সহ একাধিক চিকিৎসক নিয়মিত রোগী দেখেন। নিয়ম অনুযায়ী, ডাক্তারের ফি ৫০০ টাকা হলেও স্লিপ নেওয়ার সময় রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০ টাকা জমা নেওয়া হতো। দোকান থেকে ওষুধ কিনলে বিল তৈরির সময় ওই ১০০ টাকা ফেরত দেওয়া হতো। কিন্তু কেউ বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে চাইলে সেই টাকা বাজেয়াপ্ত করা হতো, এমনকি ডাক্তার দেখানোর অনুমতিও দেওয়া হতো না বলে অভিযোগ।

শনিবার রাতে এই অনিয়মের প্রতিবাদে সরব হন রোগী ও তাঁদের পরিবার। বিক্ষোভকারী রাজু সাহা ও সুজিত রায় জানান, মুদ্রিত দামেই (MRP) ওষুধ বিক্রি করা সত্ত্বেও কেন রোগীদের একটি নির্দিষ্ট দোকান থেকেই ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হবে? চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোগী কোথা থেকে ওষুধ কিনবেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত দোকান মালিককে আটক করে। ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু গুসকরা নয়, কাটোয়া, ভাতার ও মন্তেশ্বরের মতো এলাকাতেও বেসরকারি চিকিৎসকদের ঘিরে এমন অলিখিত নিয়ম চালু রয়েছে। এই বেআইনি সিন্ডিকেট বন্ধ করতে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও ড্রাগ কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *