ধ্বংসস্তূপেই শেষ ১৯ বছরের অক্ষতের ইউপিএসসি জয়ের স্বপ্ন!
বার্তা ডেস্কঃ
‘বাবা, একদিন আমাকে নিয়ে তোমার খুব গর্ব হবে। মস্ত বড় অফিসার হয়ে দেখাব।’ দিল্লির সত্য নিকেতনে বেআইনি বহুতল ভেঙে প্রাণ হারানোর পর ১৯ বছরের অক্ষত সিং যাদবের বলা এই কথাগুলোই এখন বারবার তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁর বাবাকে। মধ্যপ্রদেশের কাটনি থেকে আসা এই মেধাবী তরুণ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিজিডিএভি কলেজে পড়ার পাশাপাশি ইউপিএসসি-র প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু রবিবারের এক অভিশপ্ত দুপুরে সব স্বপ্ন নিমেষেই ধুলিস্যাৎ হয়ে গেল পিজির ধ্বংসস্তূপের নিচে।
মাত্র কয়েক দিন আগেই রাখিবন্ধন উৎসবে বাড়ি গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন অক্ষত। বোনকে উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফিরেছিলেন দিল্লিতে। কিন্তু সেই কথা আর রাখা হলো না। জরাজীর্ণ ভবনের নিচে চাপা পড়ে আকস্মিকভাবে নিভে গেল মা-বাবার একমাত্র ভরসার জীবন প্রদীপ। দুর্ঘটনার খবর পৌঁছাতেই পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া; মায়ের একটাই হাহাকার—‘যে সন্তানকে নয় মাস গর্ভে ধারণ করেছি, আজ তার নিথর দেহ কীভাবে দেখব?’
তদন্তে জানা গেছে, ৫০ বছরের পুরোনো ওই জরাজীর্ণ ভবনে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ফ্লোর নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রায় ৩০টি ঘরে গাদাগাদি করে রাখা হতো অন্তত ৭৫ জন পড়ুয়াকে। মর্মান্তিক এই বিপর্যয়ের পর পুলিশ ভবনের মালিক, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি রাজধানীর ছাত্রাবাস ও পিজিগুলির চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং বেআইনি নির্মাণের নির্মম বাস্তবতাকে ফের প্রকাশ্যে এনে দিল।