খাম প্রতীকের আড়ালে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ছক! ভাঙড়ে নওশাদকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের
ভাঙড়ের নির্বাচনী জনসভা থেকে আইএসএফ এবং বামেদের কড়া ভাষায় বিঁধলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এবং সিপিএমের জোট নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, বিরোধী ভোট ভাগাভাগি করে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই নন্দীগ্রামে আলাদাভাবে প্রার্থী দিয়েছে তারা। নওশাদ সিদ্দিকির নির্বাচনী প্রতীক ‘খাম’ প্রসঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি থেকে বিশেষ সুবিধা পেয়েই কি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে!
কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ও বি-টিম বিতর্ক
নওশাদ সিদ্দিকির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা গিয়েছে অভিষেককে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অমিত শাহের নিয়ন্ত্রিত সিআরপিএফ কেন নওশাদকে সুরক্ষা দিচ্ছে? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তার উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের বিধায়কের কেন্দ্রীয় সুরক্ষা পাওয়া আদতে একটি গোপন চুক্তির ফসল। ভাঙড়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে আইএসএফ-কে সরাসরি বিজেপির ‘বি-টিম’ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।
ভোটের ময়দানে ধর্মীয় মেরুকরণের আশঙ্কা
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রার্থী দিয়েছে আইএসএফ এবং সিপিএম। এই কৌশলী পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বিজেপিই লাভবান হবে বলে মনে করছে ঘাসফুল শিবির। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব সরাসরি ভাঙড় এবং পার্শ্ববর্তী লোকসভা কেন্দ্রগুলোর ভোটবাক্সে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বসিরহাটের সভা থেকেও কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং উপনির্বাচন না হওয়া নিয়ে সরব হয়ে নিজেকেই এলাকার অভিভাবক হিসেবে তুলে ধরেন অভিষেক।
এক ঝলকে
- নন্দীগ্রামে আইএসএফ ও সিপিএমের আলাদা প্রার্থী দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিষেক।
- নওশাদ সিদ্দিকির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়াকে বিজেপির সাথে চুক্তির ইঙ্গিত বলে দাবি।
- ভাঙড়ের সভায় আইএসএফ-কে বিজেপির ‘বি-টিম’ বলে কটাক্ষ।
- ভোট ভাগাভাগির মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান তৃণমূল নেতৃত্বের।