বিজেপির ঘরেই বাল্যবিবাহের ছড়াছড়ি! কল্যাণের মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি
বার্তা ডেস্কঃ
নাবালিকা বিবাহ প্রতিরোধ এবং সামাজিক ভাতা বন্ধের ইস্যু ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। বাল্যবিবাহের সামাজিক বাস্তবতা ও সমাধান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
ভাতা বন্ধ ও পক্সো আইন নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান: রাজা রামমোহন রায়ের মতো মনীষীদের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সমাজ থেকে এই ব্যাধি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। তবে এর সমাধান হিসেবে সাধারণ মানুষের সরকারি ভাতা বন্ধ করা অনুচিত। পক্সো (POCSO) আইনে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত তাকে জেল খাটাতে পারে, কিন্তু প্রাপ্য সরকারি সামাজিক সুবিধা বা ভাতা আটকে রাখা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।
সনাতনী হিন্দু ও বিজেপির দিকে আঙুল: বক্তব্যের এক পর্যায়ে তৃণমূল সাংসদ আক্রমণাত্মক সুরে দাবি করেন, বিজেপির ঘরেই বাল্যবিবাহের প্রবণতা সবথেকে বেশি দেখা যায় এবং বাস্তবে সনাতনী হিন্দুরাই বেশি সংখ্যায় বাল্যবিবাহ দিয়ে থাকেন। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজেপি নেতৃত্ব।
‘মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে’, পাল্টা তোপ সুকান্তের: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বয়ানের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে।” সুকান্তবাবুর দাবি, সরকারি তথ্য ও পরিসংখ্যানই প্রমাণ করছে রাজ্যে বহু অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে গর্ভবতী হচ্ছে। রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্বে তৃণমূল থাকায় এই ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় তাদেরই, যা প্রমাণ করে রাজ্য সরকারের সামাজিক প্রকল্পগুলি আদতে ব্যর্থ হয়েছে।
পরিসংখ্যান ঘিরে শাসক-বিরোধী তরজা: উল্লেখ্য, এর আগে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তথ্য পেশ করে দাবি করেছিলেন, রাজ্যের মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই বাল্যবিবাহের হার সবচেয়ে বেশি এবং বিবাহিত নাবালিকাদের বড় অংশ একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের। তিনি আরও বলেন, এই অপরাধের সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই এবং আইনের নজর সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। শুভেন্দুর এই বক্তব্যের পর কল্যাণের সনাতনী হিন্দুদের নিশানা করার কৌশল ঘিরে দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে তরজা এখন চরমে।