ফোনে তেজপাতা রাখলেই রাতারাতি ধনী! ভাইরাল টোটকার আসল সত্য কী?
September 9, 2026
বার্তা ডেস্কঃ
ইনস্টাগ্রাম রিলস খুললেই এখন নতুন এক ট্রেন্ড—স্মার্টফোনের ট্রান্সপারেন্ট কভারের পেছনে একটি শুকনো তেজপাতা রাখা। দাবি করা হচ্ছে, সামান্য এই রান্নাঘরের উপাদান নাকি রাতারাতি ভাগ্য বদলে দিতে পারে, নিমিষে দূর করতে পারে সব নেগেটিভ এনার্জি। কোনো কিছু যাচাই না করেই হাজার হাজার মানুষ সোশাল মিডিয়ায় এই টোটকা ট্রাই করছেন। তবে অন্ধভাবে এই ট্রেন্ডে গা ভাসানোর আগে জেনে রাখা ভালো এর পেছনের সত্য।
ভাইরাল দাবিগুলো ঠিক কী?
- আর্থিক উন্নতি: বাস্তুশাস্ত্রে তেজপাতাকে সমৃদ্ধির প্রতীক ধরে নিয়ে বলা হচ্ছে, এটি ফোনে রাখলে টাকা-পয়সা আকর্ষণ করে।
- ইচ্ছা পূরণ: তেজপাতার ওপর মনের ইচ্ছা লিখে কভারে রেখে দিলে নাকি তা দ্রুত পূরণ হয়।
- মানসিক চাপ কমানো: তেজপাতার সুবাস ফোনের নেগেটিভ এনার্জি ও মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞান ও বাস্তব সত্য কী বলছে? বিজ্ঞান বা গবেষণায় এসব দাবির কোনো সত্যতা বা প্রমাণ মেলেনি। এটি সম্পূর্ণভাবে লোকবিশ্বাস, বাস্তু ও জ্যোতিষ-নির্ভর একটি প্রচলিত টোটকা।
- প্লাসিবো ইফেক্ট: ফোনে পাতা রাখলে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বৃদ্ধি পাওয়া বা চাকরি পাওয়ার কোনো যুক্তি নেই। এটি মনকে সান্ত্বনা দেওয়ার ‘প্লাসিবো ইফেক্ট’ ছাড়া কিছুই নয়।
- গন্ধ ও মানসিক চাপ: তেজপাতায় ‘ইউজেনল’ নামক সুগন্ধি উপাদান থাকলেও, কভারের ভেতরে থাকা শুকনো পাতা থেকে এতটাই সামান্য গন্ধ বের হয় যা মানসিক চাপ বা নেগেটিভ এনার্জি কমানোর মতো কোনো ক্লিনিক্যাল প্রভাব ফেলে না।
- ফোনের ক্ষতির ঝুঁকি: ফোন ঠান্ডা রাখা বা নেটওয়ার্ক উন্নত করার সঙ্গে তেজপাতার দূরতম সম্পর্কও নেই। উল্টে, দীর্ঘদিন কভারের ভেতর থাকার ফলে শুকনো পাতাটি ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যেতে পারে। এই গুঁড়ো অংশ চার্জিং পোর্ট বা স্পিকারে ঢুকে দামি স্মার্টফোনটি চিরতরে নষ্ট করে দিতে পারে।
সুতরাং, অবৈজ্ঞানিক গুজবে কান দিয়ে অলৌকিক কিছুর আশায় নিজের ফোনের ঝুঁকি না নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।