ইরানের হাতে মার্কিন সাবমেরিন আটক, পাল্টা হামলায় ধ্বংস ৫ তেল ট্যাঙ্কার!
বার্তা ডেস্কঃ
September 9, 202612:33 pm
মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। তেলের ট্যাঙ্কার ও যুদ্ধজাহাজে হামলার জের ধরে ইরানের ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালীর মুখ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম আধুনিক চালকবিহীন সাবমেরিন (আন্ডারওয়াটার ড্রোন) ‘ডাইভ-এলডি’ (Dive-LD) আটক করেছে। আইআরজিসির সংবাদমাধ্যম ‘সেপাহ নিউজ’ অনুযায়ী, একটি জটিল গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এই যানটি আটক করা হয়। পাশাপাশি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) ড্রোন ধ্বংস করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিক্রিয়া ও ড্রোন বিতর্ক ইরানের দাবির প্রেক্ষিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আঞ্চলিক জলসীমায় সমীক্ষা চালানোর সময় তাদের একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোনে প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তবে আটক করা ড্রোনটিই সেটি কি না, তা স্পষ্ট করেনি পেন্টাগন। পেন্টাগনের মুখপাত্র জানান, এটি কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছিল না এবং এতে গোপনীয় সোনার বা রাডার সরঞ্জাম ছিল না। উল্লেখ্য, ‘অ্যান্ডুরিল’ কো ম্পা নির তৈরি ২৫ লাখ ডলার মূল্যের এই ‘ডাইভ-এলডি’ ড্রোনটি টানা ১০ দিন পর্যন্ত সমুদ্রের ১৯,৭০০ ফুট গভীরে কাজ চালাতে সক্ষম।
পাল্টা মার্কিন হামলা ও তেলের ট্যাঙ্কার ধ্বংস আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানি বাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টা করেছিল। তার পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ৫টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংস করেছে।
ইরানি বিমান সংস্থার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা সামরিক সংঘাতের সাথে সাথে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দফতর ইরানের ২৭টি বিমান সংস্থাকে তাদের ‘বিশেষ তালিকাভুক্ত ব্যক্তি’ (SDN) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আপাতদৃষ্টিতে বেসরকারি মনে হলেও এসব বিমান সংস্থাকে ব্যবহার করে আইআরজিসি গোপনে অস্ত্র, সংবেদনশীল প্রযুক্তি ও সামরিক কর্মী পরিবহন করে আসছিল। এর মাধ্যমে ইরানের প্রায় সবকটি বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাই এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় চলে এলো।
ইরানের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও আত্মরক্ষার প্রশ্নে অনমনীয় অবস্থান বজায় রেখেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, “ইরান সবসময় শান্তি ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কিন্তু কোনো আগ্রাসী শক্তি আক্রমণ করলে চরম অনুশোচনায় বাধ্য না করা পর্যন্ত আমাদের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। মহান ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় আমরা বিন্দুমাত্র পিছপা হব না।”