বিহার মদ মামলায় বেনজির জামিন, দিতে হবে ১৫ হাজারের ফুলের টব!
বার্তা ডেস্কঃ
‘ড্রাই স্টেট’ বিহারে বেআইনি মদ সংক্রান্ত একটি মামলায় অত্যন্ত অভিনব নির্দেশ দিল পাটনা হাইকোর্ট। মদ রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে আগাম জামিন মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে আদালত এক অনন্য শর্ত দিয়েছে—স্থানীয় সিভিল কোর্ট চত্বরের সৌন্দর্য বাড়াতে অভিযুক্তকে নিজের খরচে ১৫ হাজার টাকার বিভিন্ন জাতের ফুলের টব কিনে দিতে হবে।
ঘটনাটি বিহারের খাগড়িয়া জেলার সালারপুর এলাকার। চলতি বছরের জুন মাসে একটি উন্মুক্ত মাঠ থেকে ৮১.৪৫০ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ‘বিহার প্রহিবিশন অ্যান্ড এক্সাইজ অ্যাক্ট’-এর কঠোর ধারায় স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম কুমারকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়েন তিনি।
পাটনা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজীব রায়ের একক বেঞ্চে শুনানিকালে উত্তমের আইনজীবী যুক্তি দেন যে, বাজেয়াপ্ত মদ কোনো বন্ধ ঘর বা সরাসরি অভিযুক্তের ব্যক্তিগত হেফাজত (Conscious Possession) থেকে মেলেনি। এটি একটি খোলা মাঠ থেকে উদ্ধার হওয়ায় সেখানে যে কারোর যাতায়াত সম্ভব ছিল। পাশাপাশি, আইনজীবী ২০১৯ সালের ‘রাম বিনয় যাদব বনাম বিহার সরকার’ মামলার আইনি নজির টেনে জানান, প্রাথমিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যক্ষ অপরাধ প্রমাণিত না হলে মদের কড়া আইনি ধারাতেও আগাম জামিন সম্ভব। শুনানির মাঝেই অভিযুক্ত উত্তম কুমার নিজে থেকেই খাগড়িয়া সিভিল কোর্টের পরিবেশ সুন্দর করতে ‘জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ’কে (DLSA) ১৫,০০০ টাকার ফুলের টব কিনে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এর তীব্র বিরোধিতা করলেও, মদ উদ্ধারের স্থানটি খোলা মাঠ বিবেচনা করে বিচারপতি রাজীব রায় আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। রায় অনুযায়ী, চার সপ্তাহের মধ্যে ১০ হাজার টাকার জামিন বন্ডে তিনি জামিন পাবেন। তবে টব কেনার পাশাপাশি জামিন বহাল রাখতে আগামী ৬ মাস প্রতি ১৫ দিন অন্তর স্থানীয় থানায় হাজিরা দিতে হবে এবং খাগড়িয়া আদালতে প্রতিটি শুনানিতে উপস্থিত থাকতে হবে। পরপর দু’টি শুনানিতে অনুপস্থিত থাকলে কিংবা সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে তাঁর এই জামিন সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।