চাকরি ছাড়ো নয়তো মরো, লস্করের হুমকিতে ফের আতঙ্কে ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত!

বার্তা ডেস্কঃ

ইন্টারনেট, ডার্ক ওয়েব এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে লস্কর-ই-তৈবা ঘনিষ্ঠ ‘ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল’ (ULC)-এর তরফ থেকে জম্মু-কাশ্মীরে কর্মরত প্রায় ৭,০০০ কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে ‘চাকরি ছাড়ো নয়তো মরো’ (Leave-or-Die) চরম হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত এক মাসে অন্তত পাঁচটি এমন ভয় দেখানো চিঠি সামনে এসেছে, যার ফলে ৯০-এর দশকের সেই হাড়-হিম করা আতঙ্কের ছায়া ফের ভূ-স্বর্গে দেখা দিচ্ছে।

চিঠির পাশাপাশি কর্মীদের ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ফাঁস করে দেওয়া হয়েছে। সাবা কৌল নামে এক কাশ্মীরি পণ্ডিত প্রতিনিধি এই ঘটনাকে “মহাবিপর্যয় ও নিরাপত্তা সংকট” হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও উপরাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। ভিটেমাটি হারিয়ে পুনর্বাসনের আসায় আসা আতঙ্কিত পণ্ডিত কর্মীরা ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা এবং সাইবার ক্রাইম উইংয়ের কাছে নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছেন।

আবাসন ও পরিকাঠামোর চরম ঘাটতি

‘অল পিএম প্যাকেজ এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রতিনিধি রাকেশ হান্দু অভিযোগ করেছেন যে, সরকার উপত্যকায় ৬,০৪২টি আবাসন তৈরির দাবি করলেও বাস্তবে মাত্র ৮০০টি বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে সুরক্ষা ব্যবস্থার অভাব থাকা সত্ত্বেও কুলগামের মতো বিচ্ছিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন কোয়ার্টারে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন এই সংখ্যালঘু কর্মীরা।

তপ্ত রাজনীতি

নিরাপত্তা সংকট নিয়ে উপত্যকার রাজনীতিও উত্তপ্ত। ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান ফারুক আবদুল্লাহ এই পরিস্থিতিকে প্রশাসনের ‘ভয় দেখানোর ষড়যন্ত্র’ বলে মন্তব্য করলে পাল্টা তোপ দাগে বিজেপি। বিজেপি নেতা প্রদীপ ভাণ্ডারি অভিযোগ করেন, ফারুক আবদুল্লাহর মন্তব্য কাশ্মীরি হিন্দুদের ভোগান্তিকে ছোট করে দেখায় এবং তা পরোক্ষভাবে জঙ্গিদের সমর্থন করার নামান্তর। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এই ধরণের হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০০৮ ও ২০১৫ সালের ‘প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন প্যাকেজ’-এর অধীনে ৬,০০০ কর্মী সরকারি চাকরি পেয়ে উপত্যকায় কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ২০২২ সালে তেহসিল অফিসে রাহুল ভাটের মতো নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর এই নতুন সাইবার হুমকি ও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিরাপত্তার অস্তিত্বকেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *