মাফিয়ার হুমকিতে গর্জে উঠলেন বিচারক, কাপুরুষ হওয়ার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়!
বার্তা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরের বিচারক রবিকুমার দিবাকর ফের আলোচনার কেন্দ্রে। গ্যাংস্টারদের লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি এবং এজলাস থেকে শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলা সরিয়ে নেওয়ার নজিরবিহীন চাপের মুখে দাঁড়িয়েও ২৩তম মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন তিনি। সেই সঙ্গেই হুঙ্কার ছেড়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “কাপুরুষ বিচারক হওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।”
২০১৮ সালে স্ত্রী শাহজাদীকে পুড়িয়ে মারার অপরাধে স্বামী নাদিমকে সম্প্রতি ফাঁসির সাজা দেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক দিবাকর। ঘটনার ৩৮ পৃষ্ঠার রায়ে তিনি অভিযোগ তোলেন, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের প্রভাবশালী মাফিয়া চক্রের সাথে রাজনৈতিক নেতাদের গভীর যোগসাজশ রয়েছে। এমনকি মধ্যস্থতাকারীদের দিয়ে তাঁকে বদলি করে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। বিচারকের সাফ বার্তা, গ্যাংস্টারদের ভয় পাওয়ার দিনই তাঁর অবসর নেওয়া উচিত। সম্প্রতি তাঁর দু’জন নিরাপত্তারক্ষীকে বদলে দেওয়ায় এই সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজিপি-কে চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি।
বিচারক দিবাকরের এই শক্ত অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি মন্তব্য করেন, এ জাতীয় হুমকি এই পেশারই একটি অংশ। নিজের কর্তব্যে অবিচল থেকে বিচারক দিবাকর প্রকৃত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।
২০০৯ সালে বিচার বিভাগে যোগ দেওয়া রবিকুমার দিবাকর ২০২২ সালে জ্ঞানবাপী মসজিদে সমীক্ষার নির্দেশ দিয়ে প্রথমবার সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে চর্চায় আসেন। সম্প্রতি গত ৪ মাসে ১০টি মামলায় মোট ২২ জনকে ফাঁসির সাজা দেওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয় এবং তাঁর এজলাস থেকে ১০০টি মামলা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে সমস্ত বিতর্ক ও মাফিয়াদের হুমকিকে উপেক্ষা করেই নিজের কঠোর অবস্থানে অনড় রয়েছেন এই বিচারক।