প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ইডির হানা, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

বার্তা ডেস্কঃ

বিতর্কিত ‘মান্থলি পে-অফ’ অবৈধ লেনদেন মামলার তদন্তে গিয়ে আক্রমণের মুখে পড়া কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরি (ED) এবার নজিরবিহীন আইনি পদক্ষেপ নিল। কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে ফেরার পথে আধিকারিকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় সরাসরি ‘প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট’ (PMLA)-এর অধীনে মামলা রুজু করেছে সংস্থাটি।

গত ২৭ মে তিরুঅনন্তপুরমে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে অভিযান শেষে বের হওয়ার সময় শাসকদল সিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে ইডি আধিকারিকদের নিগ্রহ এবং গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর রাজ্য পুলিশ ২৭ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল। ইডি এখন সেই ২৭ জন অভিযুক্তকেই নতুন PMLA মামলায় যুক্ত করেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত বড়সড় আর্থিক জালিয়াতির তদন্তেই এই ধারা ব্যবহার করা হয়; সরকারি কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় PMLA প্রয়োগ অত্যন্ত বিরল এবং কড়া বার্তা বহনকারী।

ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে ইডি প্রধান ৩টি বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছে:

  • পরিকল্পিত চক্রান্ত: ইডির স্বাভাবিক কাজ বানচাল করতে আগে থেকেই ছক কষা হয়েছিল কি না।
  • প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা: বাজেয়াপ্ত করা স্পর্শকাতর নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ ছিনিয়ে নেওয়া বা ধ্বংস করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল কি না।
  • আর্থিক লেনদেনের যোগ: এই হামলা সংগঠিত করতে কোনো গোপন আর্থিক মদত বা ফান্ডিং দেওয়া হয়েছিল কি না।

ইডির অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ মূল পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে। ইতিপূর্বে পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে বীণা এবং পি.এ. মহম্মদ রিয়াসের বিরুদ্ধে দুর্নীতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের শীর্ষ স্তরে চিঠি পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। তার পরপরই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে PMLA ধারায় মামলা দায়েরের এই সিদ্ধান্ত কেরলের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। খুব শিগগিরই এই ঘটনায় জড়িত প্রভাবশালী নেতাদের সমন পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চলেছে ইডি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *