সৌদি রক্ষায় হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পথে পাকিস্তান!
বার্তা ডেস্কঃ
September 10, 20268:33 am
সৌদি আরবের জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি—‘মক্কা চুক্তি’ সক্রিয় করার ইঙ্গিত দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম Geo News-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ স্পষ্ট জানান, মক্কা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সৌদি আরবের ভূখণ্ডে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বা হামলা বাড়লে পাকিস্তান সেনা পাঠাতে ও সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য থাকবে।
কী এই ‘মক্কা চুক্তি’?
- গত মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে এই ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়।
- মূল নীতি: চুক্তির মূল কথা হলো—যেকোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা হলে, তা বাকি দুই রাষ্ট্রের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সব দেশ যৌথভাবে প্রতিরক্ষা গড়ে তুলবে।
- প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান: খাজা আসিফ স্পষ্ট করেছেন যে এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি, কোনো আক্রমণাত্মক জোট নয়। সৌদি আরব আক্রান্ত হলে পাকিস্তান পাশে দাঁড়াবে, কিন্তু নিজ থেকে কোনো নতুন যুদ্ধ শুরু করা এই চুক্তির লক্ষ্য নয়।
হুথি-সৌদি সংঘাতের পটভূমি ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে হুথিদের দমন করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অভিযান চালিয়ে আসলেও হুথিরা সেখানে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পুনরায় সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হুথিদের এই ধারাবাহিক হামলায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
মক্কা চুক্তির মূল পরীক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের নিরাপত্তার স্বার্থে এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। তবে বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ওমর করিম ও জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মেহরান কামরাভার মতে—সৌদি আরব আক্রান্ত হলে পাকিস্তান তাদের প্রতিরক্ষা জোগাবে, তা পরিষ্কার। কিন্তু সৌদি আরব যদি পুনরায় ইয়েমেনের ভেতরে ঢুকে স্থল অভিযান শুরু করে, তবে পাকিস্তান ও তুরস্ক সেই আক্রমণে কতটা অংশ নেবে—সেটাই হবে মক্কা চুক্তির সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা।