শিক্ষক দিবসেই রক্ত ঝরল জলপাইগুড়িতে, প্রধানশিক্ষককে মারধরের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য!
বার্তা ডেস্কঃ
September 10, 20269:34 am
জলপাইগুড়ি: শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে ঘটে গেল এক অনভিপ্রেত ও নজিরবিহীন ঘটনা। খাওয়াদাওয়ার আয়োজনকে কেন্দ্র করে দশম শ্রেণির একদল পড়ুয়ার হাতে আক্রান্ত হলেন স্কুলের প্রধানশিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুই। গুরুতর আহত অবস্থায় রক্তাক্ত প্রধানশিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এই ঘটনায় নবান্নের তরফে বিবৃতি জারি করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকার পড়ুয়াদের পাশাপাশি প্রধানশিক্ষকের ভূমিকা ও আচরণকেও ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে চিহ্নিত করেছে।
ঘটনার নেপথ্যে: মঙ্গলবার স্কুলে শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের জন্য ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, দশম শ্রেণির একাংশের দাবি ছিল তাদের খাবারের বরাদ্দে হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। এই নিয়ে প্রথমে বচসা এবং পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রধানশিক্ষকের ওপর হামলা চালায় কয়েক জন ছাত্র। আঘাতে তাঁর কপাল ফেটে যায়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন প্রধানশিক্ষকের শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার তাঁকে ১৫ দিনের ছুটি মঞ্জুর করেছে।
নবান্নের ভূমিকা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ: ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে স্কুলশিক্ষা দফতর। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদর্শক (ডিআই) সুজিত সরকার ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন। নবান্নের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো আইনগত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানাতে হবে। শিক্ষা পরিস্থিতির সম্যক ধারণা নিতে আগামী শুক্রবার নিজে ওই স্কুল পরিদর্শনে যাচ্ছেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।
থমথমে পরিবেশ ও শিক্ষক মহলে ক্ষোভ: ঘটনার পরদিন বুধবার স্কুল খোলা থাকলেও পড়ুয়াদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। পুরো প্রাঙ্গণ জুড়েই থমথমে আবহ বিরাজ করছে। সহকর্মী ও শিক্ষক সংগঠনগুলি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রধানশিক্ষকের ওপর হামলার সময় সেখানে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকেরা কেন নীরব ভূমিকা পালন করলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রাক্তন প্রধানশিক্ষক ধীরাজমোহন ঘোষের মতে, দীর্ঘদিন স্কুলে কোনো পরিচালন সমিতি না থাকাতেই শৃঙ্খলার এই অবনতি। তবে এত বড় কাণ্ডের পরেও এখনও পর্যন্ত স্কুলের তরফে পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ জানানো হয়নি।