WHO ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ, কেন এমন সিদ্ধান্ত?
বার্তা ডেস্কঃ
September 10, 20262:33 pm
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিকর্তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার তিনি এই পদত্যাগপত্র জমা দেন। ডব্লিউএইচও এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলার মাঝেই এই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ঘনিষ্টদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি ও দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সেই আইনি প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়ল শেখ হাসিনার পরিবারের উপরেও।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদের জন্য ডব্লিউএইচও-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিকর্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সায়মা। তবে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও নথি জাল করার অভিযোগে মামলা দায়ের করার পর তাঁকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসেও তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সায়মার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। রয়টার্সের হাতে আসা ২০২৬ সালের ৩ জুলাইয়ের সায়মার আইনজীবীদের একটি চিঠি অনুযায়ী, চিন সফরের ভ্রমণ খরচে আর্থিক অনিয়ম এবং তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছিল ডব্লিউএইচও। তবে সায়মা শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
পাশাপাশি, সায়মার পদত্যাগপত্রে বাংলাদেশে একটি জমি বেআইনিভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। যদিও এই অভিযোগও খারিজ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ডব্লিউএইচও-তে যোগ দেওয়ার অনেক আগেই তিনি ওই সম্পত্তি পেয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা তথা তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনি বিধানের মাধ্যমেই তিনি ওই জমির মালিকানা লাভ করেছেন বলে জানিয়েছেন সায়মা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বের ওপর আস্থার অভাব
পদত্যাগপত্রে ডব্লিউএইচও নেতৃত্বের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা হারানোর কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন সায়মা। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে স্বাধীনভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়নি। এছাড়াও, প্রায় এক বছর ধরে বেতন না পাওয়ার কারণে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইসাসের কাছে পাঠানো ইস্তফাপত্রে সায়মা লিখেছেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মানুষের সেবা করার জন্যই তাঁকে আঞ্চলিক অধিকর্তা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল এবং তিনি নিষ্ঠার সঙ্গেই তা পালন করছিলেন। কিন্তু পদে থেকে কাজ করতে বারবার বাধা দেওয়ায় বর্তমান নেতৃত্বের ওপর থেকে তাঁর সমস্ত বিশ্বাস ও আস্থা উঠে গেছে। প্রায় এক বছর ধরে বেতন না পাওয়ায় আর্থিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও এই ইস্তফার পর এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
নতুন অধিকর্তা নির্বাচনের প্রক্রিয়া
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে অপসারণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আগামী ১২ অক্টোবর এই পদের জন্য নতুন প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ডিসেম্বর মাসে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই শেষে আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি নতুন আঞ্চলিক অধিকর্তা নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ডব্লিউএইচও-র আঞ্চলিক অধিকর্তারা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণ এবং জরুরি স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। রোগ প্রতিরোধ ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনের কাজটিও তাঁরাই করে থাকেন। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সদস্য দেশগুলির ভোটাভুটির মাধ্যমে এই পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির তালিকায় বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই রয়েছে।