৭ বছর পর ভারতে শি জিনপিং, ব্রিকস সম্মেলনে মিলবে কি সমাধান?
বার্তা ডেস্কঃ
September 10, 20266:34 pm
নতুন দিল্লি: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দীর্ঘ টানাপোড়েন কাটিয়ে অবশেষে ভারত সফরে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত হতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন। চিনের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জিনপিংয়ের এই দিল্লি সফরের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০১৯ সালের পর, অর্থাৎ দীর্ঘ ৭ বছর পর এটাই চিনা রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম ভারত সফর।
এক নজরে মূল তথ্য:
- ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন।
- দীর্ঘ ৭ বছর পর ভারত সফরে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
- ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘাতের পর এটাই তাঁর প্রথম ভারত সফর।
- সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রবল সম্ভাবনা।
গালওয়ান সংঘাতের পর প্রথম সফর প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শেষবার ভারতে এসেছিলেন ২০১৯ সালে। সেই সময় তামিলনাড়ুর মামাল্লাপুরমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছিল। তবে ২০২০ সালের জুন মাসে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনা সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে চরম শৈত্য তৈরি হয়। পরবর্তীতে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও, কোনো চিনা রাষ্ট্রপ্রধান ভারতে আসেননি। ফলে দীর্ঘ ৭ বছর পর জিনপিংয়ের এই উপস্থিতি কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মোদী-জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জল্পনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চিনা প্রেসিডেন্ট। বিশ্ব রাজনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক ইস্যুতে আলোচনার কথা রয়েছে এই ব্রিকস মঞ্চে। তবে সম্মেলনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের মধ্যে আলাদা কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে কি না, তা নিয়ে দুই দেশের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত সমস্যা ও বাণিজ্যিক জটিলতার জমাট বরফ গলাতে এই সম্মেলনের ফাঁকেই দুই শীর্ষ নেতার মুখোমুখি আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে দিল্লি হাইপ্রোফাইল এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে ঘিরে জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় প্যারা-মিলিটারি বাহিনীর হাজার হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। ব্রিকসের নতুন ও পুরনো সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তায় কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন। ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলন বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে।